কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
শুক্রবার (২২ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গোর জন্য তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ স্তরে উন্নীত করেছে; তবে আঞ্চলিক ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা ‘কম’ রাখা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিটিকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোয় এখন প্রায় ৭৫০ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত লোক রয়েছে এবং ১৭৭ জন সন্দেহভাজন রোগটিতে মারা গেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে এমন প্রতিটি ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকদের খুঁজে বের করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোয় ৮২ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে ডিআর কঙ্গোর এই মহামারীটি আরও অনেক বড়। সেখানে এখন প্রায় ৭৫০ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ১৭৭ জন সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আরও জানান, উগান্ডার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে; সেখানে ডিআর কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করা দুজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং একজন মারা গেছে। উগান্ডায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিবিড়ভাবে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সন্ধান করা এবং দেশটিতে শহীদ দিবস উদযাপন বাতিল করা।
ডিআর কঙ্গোয় কর্মরত একজন মার্কিন নাগরিকের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, সংস্পর্শে আসা অন্য এক মার্কিন নাগরিককে চেক প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসা পরীক্ষার পরিকল্পনা
ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ যা শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মারাত্মক রক্তক্ষরণ এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে থাকা ইবোলার 'বুন্দিবুগিও' স্ট্রেইনের জন্য অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা থেরাপিউটিক (চিকিৎসা পদ্ধতি) নেই। এর আগে বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের মাত্র দুটি প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল—২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোয়।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সিলভি ব্রায়ান্ড বলেন, জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বিদ্যমান সমস্ত সরঞ্জামের একটি তালিকা তৈরি করছে যা এই প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর হতে পারে এবং তারপর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতাকে প্রধান মানদণ্ড ধরে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা চিকিৎসার বিষয়ে তাদের প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা দলের বৈঠক ডেকেছে, যারা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য দুটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এক্সপোজার-পরবর্তী প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অ্যান্টিভাইরাল 'ওবেলডিসিভির' মূল্যায়নেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্রায়ান্ড বলেন, এটি আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে, যা সংক্রমিত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীরে এই সংক্রমণ থেকে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুন্দিবুগিওর বিরুদ্ধে কার্যকর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির বিষয়েও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক