চীন ইরানে অস্ত্র পাঠাবে না : ট্রাম্প
চলমান যুদ্ধের মধ্যে বেইজিং তেহরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত সপ্তাহে নিজের তিন দিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ট্রাম্প। খবর আল জাজিরার।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না। এটি একটি চমৎকার প্রতিশ্রুতি ও আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস রাখি।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বেইজিংও আমেরিকার মতোই বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চায়।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিং সফরে রয়েছেন ও মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। তবে তিন দিনের বেইজিং সফরে ট্রাম্প বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তি করতে পারলেও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে চীনের কাছ থেকে বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি আদায় করতে পারেননি। চীন মূলত এই সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার নীতি বজায় রেখেছে।
ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম, যেকোনো মুহূর্তে হামলার শঙ্কা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, গত ৮ এপ্রিল থেকে চলা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে সোমবারের নির্ধারিত একটি বড় হামলা স্থগিত করলেও ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবারও তিনি নতুন করে হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে মাত্র ‘এক ঘণ্টা’ দূরত্বে ছিলেন।
ইরানকে আলোচনার জন্য মাত্র কয়েকদিন সময় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাদের শুক্রবার, শনিবার, রোববার বা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিক পর্যন্ত সীমিত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে আমাদের হয়তো তাদের ওপর আরেকটি বড় আঘাত হানতে হবে।’
উল্লেখ্য, যুদ্ধ থামাতে ইরান ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি সংশোধিত ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে।
আমেরিকাকে চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেন, ট্রাম্প আলোচনার জন্য সময় দিচ্ছেন না, বরং মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কী ভয়ঙ্কর পাল্টা আঘাত হানবে—সেই ভয়েই তিনি পিছিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আজিজি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে তার অর্থ হবে একটি চূড়ান্ত সামরিক জবাবের মুখোমুখি হওয়া। ক্ষমতাই হলো একমাত্র ভাষা যা ট্রাম্প বোঝেন।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক