বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প, ডাকযোগে ভোটের পক্ষে রায় সুপ্রিম কোর্টের
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটদানের (মেইল-ইন ব্যালট) ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাকযোগে ভোট প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পরিকল্পনা স্থগিত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে তা বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। খবর এএফপির।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ সদস্যের বেঞ্চে থাকা ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে কেবল দুজন বিচারক (স্যামুয়েল অ্যালিতো ও ক্ল্যারেন্স থমাস) এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির সঙ্গে একমত পোষণ করে এক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানাফ উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্দেশনার বৈধতা থাকতে পারে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এটি কার্যকর করতে গেলে রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর অযৌক্তিক ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ চাপ তৈরি হবে।
শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার বলেন, ভোটদান কঠিন করে তোলার জন্য নেওয়া প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনাটি অসাংবিধানিক ছিল।
প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সদস্য হাকিম জেফ্রিজ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের মাধ্যমে চরমপন্থিদের পরাজয় ও গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) একে ভোটাধিকার সুরক্ষার বড় জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে (ইউএসপিএস) কেবল নির্ধারিত তালিকার যোগ্য ভোটারদের কাছেই ব্যালট পেপার পাঠানোর বাধ্যবাধকতা দেন। তবে শুরু থেকেই কোনো প্রামাণিক তথ্য ছাড়া মেইল-ইন ব্যালটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছিলেন ট্রাম্প।
ইতোমধ্যেই নর্থ ক্যারোলাইনা, অ্যালবামাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠাতে শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) একজন হুইসেলব্লোয়ারের তথ্যে জানা যায়, তাড়াহুড়ো করে তৈরি কারিগরি ব্যবস্থার কারণে নতুন নিয়ম চালু করলে লাখ লাখ আমেরিকান ব্যালট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারতেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিদ্যমান সাধারণ নিয়মেই ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে হাউসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক