সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে স্বর্ণের দাম
মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৬১ ডলারে। দিনের শুরুতে এটি ৪ মে’র পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে। সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। খবর রয়টার্সের।
অন্যদিকে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারস ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৬১ দশমিক ৯০ ডলারে বন্ধ হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শক্তিশালী ডলার এবং বৈশ্বিকভাবে বন্ডের সুদের হার বাড়ার কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, আলোচনায় অচলাবস্থা
আরও পড়ুন : ইরান ইস্যুতে থমকে গেছে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপের কৌশল
ম্যারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, ডলার আজ বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়েই বন্ড ইয়িল্ড বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে গেছে।
এছাড়া ডলারের মান গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক উত্থানের পথে থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে তার ‘ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে আসছে’। একই সঙ্গে চীন সফর থেকেও তিনি বাণিজ্য বা যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ফিরেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন : অর্থ সংকটে থমকে যাচ্ছে পাঁচ শিশুর বেড়ে ওঠা
আরও পড়ুন : শ্রমিক সংকটে পড়া কৃষকের ধান কেটে দিলেন সংসদ সদস্
সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে যায়, যা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে, বরং হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭৭ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৪১৫ দশমিক ০৯ ডলার।
স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও'কনেল বলেন, সিলভারের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল, তাই বাজারে সংশোধন হওয়া স্বাভাবিক ছিল। শুক্রবার এক পর্যায়ে সিলভারের দাম ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যা ৩ মার্চের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক