মানব পাচারের অভিযোগে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশিদের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার ও শোষণের অভিযোগে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (৫ মে) রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক ও মানবপাচারকারী চক্রের ওপর দেওয়া নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান স্থান পেল।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড’। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, এই এজেন্সিটি উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় যেতে প্ররোচিত করত। পরবর্তীতে তাদের প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হতো। অসহায় মানুষদের এই নিষ্ঠুর শোষণের দায়ে ব্রিটিশ সরকার প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি এই কার্যক্রমকে ‘বর্বর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অসহায় মানুষকে কামানের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখার এই চেষ্টা অমানবিক। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমরা পুতিনের ড্রোন ফ্যাক্টরি ও মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোর অর্থ ও সরঞ্জামের উৎস বন্ধ করতে চাই।
যুক্তরাজ্য মোট ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার মধ্যে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই ড্রোন উৎপাদন সচল রাখতে এবং সম্মুখ সমরে লোকবল জোগাতে রাশিয়া বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে মানুষ নিয়োগ দিচ্ছে।
সূত্র : ইউএনবি

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক