হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, তেলের দাম বাড়ছেই
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৪৭ ডলার বা ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৩৮ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১.৪০ ডলার বা ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৩৬ ডলারে পৌঁছায়। আগের দিনও উভয় সূচকই ৩ ডলারের বেশি বেড়ে বন্ধ হয়েছিল। খবর রয়টার্সের।
বাজার বিশ্লেষক বিজার্নে শিলড্রপ বলেন, বাজার এখন ‘চুক্তি প্রায় হয়ে গেছে’ ধারণা থেকে সরে এসে ‘এটি আরও দীর্ঘ সময় নিতে পারে’ এমন অবস্থায় যাচ্ছে। যদি দ্রুত সমাধানের আশা ভেঙে যায়, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
ইরান বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, যা কৌশলগত এই নৌপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, অবরোধ তুলে না নিলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হবে না।
এদিকে মার্কিন বাহিনী এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার আটক করে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ালেও এর কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়নি বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
অন্যদিকে জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানি দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি তেল আমদানি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। এছাড়া গ্যাসোলিনের মজুত ৪৬ লাখ ব্যারেল কমেছে এবং ডিস্টিলেট (ডিজেলসহ) মজুত ৩৪ লাখ ব্যারেল কমেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক