ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণায় কী প্রতিক্রিয়া ইরানের ?
শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দেশটির নীতি-নির্ধারণী মহলে কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সামরিকভাবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান।
বর্তমানে তেহরানের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নৌ-অবরোধ। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ইরান কেবল যুদ্ধের উসকানি নয়, বরং সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্তাবলির বড় ধরনের লঙ্ঘন। ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির কথা বললেও সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করাকে তারা একপাক্ষিক যুদ্ধ হিসেবেই দেখছে।
আরও পড়ুন : যে কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
আরও পড়ুন : ‘যুদ্ধবিরতির আগেই আমার স্বপ্নগুলো মরে গেছে’
ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। গত কয়েক ঘণ্টায় তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়, যদি হরমুজ প্রণালি ও তেহরানসহ দেশের ভেতরে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বর্তমান অবস্থান দ্বিমুখী। একদিকে তারা কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার পাল্টা জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে ‘ফুল অ্যালার্ট’ মুডে রেখেছে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণার পেছনে ইরান কোনো কৌশলী চাল দেখছে কি না, তা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
উল্লেখ্য, আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য সময় বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। তবে পাকিস্তানের অনুরোধে এবং ইরানের নেতৃত্বকে প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করছি। যতক্ষণ না তারা (ইরান) কোনো প্রস্তাব জমা দিচ্ছে, ততক্ষণ এটি কার্যকর থাকবে।
আপাতত তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও পর্দার আড়ালে বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক মহড়া চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো নতুন প্রস্তাব পাঠাবে কি না, তা আগামী কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক