‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করলেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিতে তিনি এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযান স্থগিত করলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ সাধিত হওয়ায় তিনি সাময়িকভাবে এই উদ্যোগটি বন্ধ রাখছেন। এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ইতোপূর্বেই বড় ধরনের সামরিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
আরও পড়ুন : চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরাঘচির বৈঠক, আলোচনা হলো যেসব বিষয়ে
ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সামরিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বড় ধরনের সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র বর্তমান পর্যায়টি শেষ হয়েছে। রুবিও মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শান্তি অর্জনের জন্য ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি মেনে নিতে হবে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানকে একমত হতে হবে। প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বের প্রতি একটি অনুগ্রহ’ হিসেবে দেখছে।
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জলপথের একটি অংশ সুরক্ষিত করেছে, যেখানে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পেরেছে ও পারস্য উপসাগরে আরও শত শত জাহাজসহ প্রায় ২৩ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো এই পথে জাহাজ চালানোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা পুনরায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে, যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় খুচরা মূল্য ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪.৫০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন : হরমুজের কাছে ড্রোন শনাক্ত, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
ইরান এখন পর্যন্ত এই চুক্তি বা স্থগিতাদেশ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিনিদের তৈরি করা বর্তমান অবস্থা তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক