ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা
ব্রেট এইচ ম্যাকগার্ক একজন অভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তাকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার বা ‘পয়েন্ট পারসন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তিনি একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে। এনটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেটি তুলে ধরা হলো–
গত সপ্তাহে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানববিহীন ড্রোন এবং রোবট চালিত একটি আক্রমণের মাধ্যমে সরাসরি রাশিয়ার একটি সামরিক স্থাপনা দখল করে নেয় ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার বাহিনীর এই যান্ত্রিক আক্রমণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ এখন আমাদের সামনে।’
মানব ইতিহাসের এই প্রথম ঘটনাটি মস্কোর জন্য একটি বড় বিস্ময় হয়ে দেখা দিয়েছে; ইরানের সহায়তায় রুশ পক্ষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে তারাই ড্রোন লড়াইয়ের বিদ্যায় বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেন এখন উদ্ভাবনী শক্তিতে রাশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিক এমন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনের শহর ও জনপদগুলোতে রাশিয়ার নৃশংস হামলা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে আসছিল ইরানের এসব ড্রোন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন—লক্ষ্যবস্তু যখন মার্কিনিরা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই পুরো সময়কাল জুড়ে আমি (ব্রেট এইচ ম্যাকগার্ক) হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিটি দিক থেকেই এটি ছিল গত দুই দশকের মধ্যে দেখা আমার জন্য সবচেয়ে জটিল এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি—এর প্রধান কারণ ছিল ইরান শুরু থেকেই এই বিশৃঙ্খলায় যোগ দেওয়ার এবং ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে আমেরিকানদের ওপর হামলা চালানোর পথ বেছে নিয়েছিল।
২০২৩ সালের বড়দিনে উত্তর ইরাকে মার্কিন অবস্থানে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে চালানো একটি জটিল হামলায় একজন আমেরিকান সৈন্য গুরুতরভাবে আহত হন। এর ঠিক এক মাস পর, ২০ জানুয়ারি ২০২৪-এ জর্ডানে একটি ইরানি ড্রোনের আঘাতে তিন আমেরিকান সৈন্য নিহত হন।
একই মাসে লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ১৮টি ড্রোন, দুটি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪-ম্যাক গতিসম্পন্ন একটি অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষোপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দেয়। শুধু শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নাবিকদের দক্ষতার কারণেই সেই হামলায় কোনো আমেরিকান নিহত বা আহত হননি।
ইরান ও রাশিয়া একই প্রযুক্তি এবং কৌশল ব্যবহার করছে
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রাথমিক মাসগুলোতে, ইউক্রেনীয় শহর, জনপদ এবং অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান তাদের ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছিল। পরবর্তীতে, তারা এই ড্রোন তৈরির প্রযুক্তিও হস্তান্তর করে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে যৌথ উৎপাদন লাইন স্থাপন করে। এই অ্যাসেম্বলি লাইনগুলো খুব শিগগিরই প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি শাহেদ ড্রোন তৈরি করতে শুরু করে।
ইরানি ড্রোনের এই ব্যাপক উৎপাদনের ফলে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর রাশিয়া নিয়মিত ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ (ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনের আক্রমণ) শুরু করে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। ইরান শিগগিরই একই কৌশল নিজেরাও গ্রহণ করে—২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল তারা ইসরায়েলি শহরগুলোকে লক্ষ্য করে ১৮০টি শাহেদ ড্রোন, ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩০টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ড্রোন ঝাঁকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত ও নিঃশেষ করে ফেলা, যাতে ভারী বিস্ফোরকবাহী এবং দ্রুতগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সহজেই আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়ার প্রতি ইউক্রেনের জবাব—উদ্ভাবন
নিজেদের রক্ষা করার তাগিদে চার বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে ইউক্রেন নিজস্ব বিশ্বমানের ড্রোন উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। গ্যারেজে কর্মরত মা থেকে শুরু করে স্টার্টআপের কোডার এবং সম্মুখ সমরের সৈনিক—সবাই মিলে এক বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছেন। বাস্তব সময়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তারা এমন এক আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক ‘ড্রোন অর্থনীতি’ তৈরি করেছেন, যার সাথে পাল্লা দিতে রাশিয়া রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
বর্তমানে রাশিয়া প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ড্রোন তৈরি করলেও, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং কার্যকারিতার দিক থেকে ইউক্রেন এখন অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের ড্রোনগুলো এখন রণক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে এবং প্রতি সপ্তাহে হাজারো রুশ সৈন্যকে হতাহত করছে। একজন ইউক্রেনীয় সৈনিক রয়টার্সকে যেমনটা বলেছেন ‘ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত না সহ্য করে কোনো রুশ সৈন্য এখন আর খোলা ময়দানে নামতে পারে না।’
হাডসন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেন এই যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ড্রোন ব্যবহার করছে। এগুলো রাশিয়ার অনেক গভীরে গিয়ে আঘাত হানছে এবং রাশিয়ার পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে বোকা বানাচ্ছে। সম্মুখ সমরে রুশ হতাহতের প্রায় ৮০ শতাংশই এখন এই ড্রোনের কারণে ঘটছে। ইউক্রেনীয়দের প্রাণ রক্ষায় এসব ডিফেন্স ড্রোন সিস্টেম সাশ্রয়ী ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমে রাশিয়ার ছোড়া ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করছে। গত সপ্তাহের একটি হামলায় ইউক্রেন রাশিয়ার ছোড়া ৩২৪টি ড্রোনের মধ্যে ৩০৯টিই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া এখনো ইউক্রেনে মারাত্মক সব ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ চালাতে সক্ষম; যেমন এই সপ্তাহেই একটি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে আক্রমণের সংখ্যা এবং ব্যাপ্তির দিক থেকে ইউক্রেন দ্রুত রাশিয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু এই বছরেই ৭০ লাখের বেশি ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে—এমন বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা বেশিরভাগ পশ্চিমা প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও নেই।
ইউক্রেনের ড্রোনগুলো বেশ সাশ্রয়ীও বটে। ইউক্রেনের একটি স্বাধীন নিরাপত্তা কেন্দ্র ‘স্নেক আইল্যান্ড ইনস্টিটিউট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করতে যেখানে ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে একটি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় তার চেয়ে ১০ গুণ কম (মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার ডলার)।
ইরানের প্রতি ট্রাম্পের জবাব—শক্তি প্রয়োগ
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পেছনে থাকা বিভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সবচেয়ে স্পষ্ট যুক্তিটি তুলে ধরেছেন। তার মতে, গত এক দশকে ইরান এমন এক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি গড়ে তুলেছে যে, এটি শীঘ্রই একটি ‘অভেদ্য ঢাল’ তৈরি করে ফেলত, যা তাদের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার পরিকল্পনাকে সুরক্ষা দিত।
মার্কো রুবিও মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরানের এই কর্মসূচি সংখ্যা এবং আধুনিকতায় এতটাই এগিয়ে যাচ্ছিল যে, এটি বিদ্যমান যেকোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে পারত এবং এই কর্মসূচি ধ্বংস করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে রুখেও দিতে পারত। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদদের ভাষায় একে বলা হয় ‘জোন অব ইমিউনিটি’ —অর্থাৎ এমন এক সুরক্ষিত অবস্থা যেখানে ইরান একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলত, যার ফলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি সামরিকভাবে নাগালের বাইরে চলে যেত।
গত এক দশকে ইরান তাদের ‘অ্যারোস্পেস প্রোগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত এই কর্মসূচিতে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসক্ষমতা, পাল্লা এবং নির্ভুলতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যা লক্ষ্যবস্তুর কয়েক মাইলের মধ্যে আঘাত হানত, এখন তা কয়েক ফুটের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১৫ সালের সাধারণ ‘স্কাড’ সদৃশ একটি কর্মসূচি ২০২৫ সালের মধ্যে এমন এক কৌশলগত ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং এই অঞ্চলে যেকোনো মার্কিন অবস্থানকে হামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ইরানে চলতে থাকা বর্তমান যুদ্ধে আমরা এর কিছুটা আভাসও পেয়েছি। এই কর্মসূচিকে যদি তার স্বাভাবিক গতিতে বাড়তে দেওয়া হতো, তবে এখন থেকে কয়েক বছর পর পরিস্থিতি সম্ভবত আরও ভয়াবহ হতো।
সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলাগুলো মূলত এই অ্যারোস্পেস স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ মজুত কেন্দ্র, উৎপাদন ইউনিট এবং যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা। এর লক্ষ্য হলো ইরানের এই সামরিক কর্মসূচিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া।
উদ্ধারকর্তা হিসেবে জেলেনস্কি
ইরান যুদ্ধের একটি স্মরণীয় চিত্র হতে পারে যুদ্ধের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যপ্রাচ্য সফর। তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার সফর করেছিলেন যখন এই দেশগুলোর প্রতিটিই—ঠিক তার নিজের দেশের মতোই—শত শত ড্রোনের হুমকির সম্মুখীন ছিল।
জেলেনস্কি সেখানে কেবল নৈতিক সমর্থন দিতে যাননি। তিনি কর্মী, কারিগরি দক্ষতা এবং একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, যা বিশেষভাবে ইরানি ‘ড্রোনের ঝাঁক’ প্রতিহত করার জন্য তৈরি। এই তিনটি উপসাগরীয় দেশ এখন ইউক্রেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তারা ইউক্রেনের বিশ্বমানের ড্রোন কর্মসূচিতে তাদের বিশাল সম্পদ ও বিনিয়োগ দিয়ে সহায়তা করছে—যা ইরান ও রাশিয়ার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
কৌশলগত মেলবন্ধন
জেলেনস্কি দেখিয়েছেন কীভাবে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র পদ্ধতিগতভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নকশা তৈরি, উৎপাদন ও উন্নতির সক্ষমতাকে সমূলে উৎপাটন করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন সেই ব্যবস্থাগুলোকে মোকাবিলা ও পরাজিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পদ্ধতিগতভাবে উদ্ভাবন এবং মোতায়েন করছে।
রাশিয়া ও ইরানের হুমকির মুখে থাকা অংশীদারদের সমর্থনে পশ্চিমা মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির ধ্বংসসাধন এবং ইউক্রেনের উদ্ভাবনী শক্তি—যা সম্ভাব্যভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে—পশ্চিমা জোটের অনুকূলে এবং শত্রু জোটের (অর্থাৎ 'CRINK': চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া) বিপক্ষে এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
দুর্ভাগ্যবশত, ওয়াশিংটন এই সুযোগটি হাতছাড়া করছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ন্যাটো ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে এবং রাশিয়ার সাথে ব্যর্থ শান্তি প্রচেষ্টার জন্য ইউক্রেনকে দোষারোপ করছে।
ট্রাম্প যদি তার ইরান অভিযানের একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যেতে চান, তবে তাকে জেলেনস্কির দিকে তাকাতে হবে—যিনি যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করার পর, এখন সময় ইউক্রেনকে শক্তিশালী করার। এটি করার মাধ্যমেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়তো ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় মোক্ষম সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক