যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনার পর ইউপিএস-ফেডএক্সের কার্গো বিমান বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ইউপিএস ও ফেডএক্স সাময়িকভাবে তাদের কার্গো বিমানের একটি অংশ স্থগিত করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে টেক-অফের সময় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন।
দুর্ঘটনায় ইউপিএস-এর একটি বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধাক্কা খায় ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং লুইসভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউপিএস জানিয়েছে, বোয়িং কোম্পানির নির্দেশে তারা তাদের এমডি-১১ মডেলের বিমানগুলো স্থগিত করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ফেডএক্সও একই পদক্ষেপ নেবে বলে নিশ্চিত করেছে।
এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে। এখনো আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনগুলোতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
লুইসভিলের মেয়র ক্রেইগ গ্রিনবার্গ বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি এবং আশা করি আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না।
ইউপিএস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে’ তারা তাদের মোট বহরের প্রায় ৯ শতাংশ বিমান স্থগিত করেছে।
বোয়িংও এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইউপিএস ও ফেডএক্সকে এমডি-১১ মডেলের ব্যবহার স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া একটি পদক্ষেপ’।
ইউপিএস ও ফেডএক্স বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো বিমান পরিবহন সংস্থা হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের ফলে ডেলিভারি কার্যক্রম কতটা প্রভাবিত হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ফেডএক্স জানিয়েছে, তাদের বহরে ২৮টি এমডি-১১ বিমান আছে। অন্যদিকে, ইউপিএস-এর বহরে দুর্ঘটনার আগে ২৭টি এমডি-১১ বিমান ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ইউপিএস জানিয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে সেবায় বিঘ্ন না ঘটে। তারা আরও বলেছে, ‘আমাদের কর্মী ও যেসব সম্প্রদায়ের সেবা করি তাদের নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’
দুর্ঘটনার বিমানটি ছিল এমডি-১১এফ মডেলের তিন ইঞ্জিনবিশিষ্ট কার্গো বিমান, যা ৩৪ বছর আগে থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে প্রথম উড়েছিল এবং ২০০৬ সালে ইউপিএস-এ স্থানান্তরিত হয়।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এসটিএসবি) প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানের বাঁ পাশের ইঞ্জিন টেক-অফের সময় আগুন ধরে ডানা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটিতে প্রায় ৩৮ হাজার গ্যালন জ্বালানি ছিল, যা দুর্ঘটনার পর আগুনের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক