শীত উপভোগে পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায়
দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় প্রতিবছর সব অঞ্চলের আগেই শীতের অনুভব শুরু হয় এবং শীত শেষও হয় সবার পরে।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক এই অঞ্চলে ভ্রমণে আসে। বিশেষ করে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে হিমালয় পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যায় পর্যটকরা। তবে ডিসেম্বর মাসে প্রতিবছর এই ভিন্নধর্মী শীত উপভোগ করতেও ছুটে যায় প্রচুর পর্যটক। এই ভিন্নধর্মী শীত উপভোগ করতে হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কীভাবে যাবেন, কোথায় ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে থাকছে বিস্তারিত
শীতকে উপভোগ করতে পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় আসতে হলে ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন দুইটিতেই আসতে পারবেন। তবে বাসে আসলে সরাসরি তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আসতে পারবেন। আর ট্রেনে আসলে পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া আসতে হবে। বাসে ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া আসতে খরচ হবে ৮'শ -১৪'শ টাকা। আর ট্রেনে আসতে পঞ্চগড় পর্যন্ত খরচ হবে ৭২০ টাকা এর পর তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গুনতে হবে ১০০ টাকা।
টিকিট কাটার পর সবার একটাই চিন্তা থাকে, গিয়ে থাকব কোথায়। অনেকে কম বাজেটে থাকতে চায় অনেকের কাছে বাজেট কোনো বিষয় নয় ভালো পরিবেশে থাকতে চায়। তেঁতুলিয়াতে খুব বড় ধরনের আবাসিক প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠলেও থাকার বেশ কিছু ভালো আবাসিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে প্রতিটি আবাসিকেই পর্যটকের সমাগম থাকে বেশি, তাই এই দিনগুলোতে আগে থেকেই রুম বুকিং করে আসা উচিত। তেঁতুলিয়ায় পর্যটকরা সাধারণত তেঁতুলিয়া বাজারের পার্শ্ববর্তী আবাসিক গুলোতেই থাকে। কারণ এখান থেকে ঘুরতে সবদিকে সুবিধা হয়ে থাকে।
আবাসিকের রুম বুকিং সহজ করতে একটি ওয়েবসাইটও করেছে উপজেলা প্রশাসন, সেখানে প্রবেশ করে সবার চাহিদা অনুযায়ী বুকিং করতে পারবেন। লিংক : https://tetuliahotels.gov.bd/hotel-details/21
তেঁতুলিয়া যাওয়ার পর
তেঁতুলিয়ায় নামার সাথে সাথেই আপনি পেয়ে যাবে হিমেল বাতাসের ছোয়া, মনে হবে আপনি এক অন্য পরিবেশে আসলেন। সকালের ঠান্ডা উপভোগ পাশাপাশি স্থানীয় কিছু পিঠারও সাদ নিতে পারেন। তেঁতুলিয়ায় সকাল বেলা নাস্তার পাশাপাশি হোটেল গুলোতে থাকে বিভিন্ন ভর্তা আইটেম, চাইলে ভর্তা আইটেম দিয়ে ভাত ও খেয়ে দেখতে পারেন। তেঁতুলিয়া বাজারেই বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে সেখানে সেগুলোতে সকালের খাবার খেয়েও নিতে পারেন।
কোথায় ঘুরবেন
তেঁতুলিয়া বেশ কিছু ঘুরার জায়গা রয়েছে, সকাল বেলা হালকা কুয়াশার সাথে তেঁতুলিয়া দেখে নিতে পারেন। সকাল বেলা প্রথমেই চলে যাবেন তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্ণার ডাকবাংলোতে, সেখানে ঘুরে এক কাপ চা খেয়ে হেটে দেখতে পারেন, মহানন্দার পাড় ঘেষে ওয়াকওয়ে দিয়ে। ওয়াকওয়ের পথ ধরে হাটতে হাটতে আপনাকে পৌঁছে যাবেন মহানন্দা পার্কে। মহানন্দা পার্ক ঘুরে আপনি চলে যাবেন ভ্যান অথবা ইজিবাইকে করে - বাশ বাগান ও বরবিল্লাহ নামে জায়গায়। সেখানে ঘুরে এসে, সকাল বেলা ভ্রমণ এখানেই সমাপ্ত করতে পারেন।
দুপুরের খাওয়া শেষে চলে যাবেন, সমতলের চা বাগান দেখতে রশুনপুরে, সেখানে কাজী এন্ড কাজীর একটি রিসোর্টও রয়েছে অনুমতি সাপেক্ষে সেটিও ঘুরে দেখতে পারেন। একই সাথে তাদের তৈরি মিষ্টির স্বাদ নিতে পারেন। সেখানেই কেটে যাবে কয়েক ঘন্টা।
তারপর চলে যাবেন বাংলাদেশের উত্তরের শেষ প্রান্ত বাংলাবান্ধায়, তেঁতুলিয়ায় যারা আসে তারা সকলেই একটি বার হলেও এই শেষ প্রান্ত দেখতে যায় যেখান থেকেই বাংলাদেশের মানচিত্র শুরু,সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ফ্লাগ স্ট্যান্ড, যেখানে উড়ছে লাল সবুজের বাংলাদেশের পতাকা।সপ্তাহে শনিবার - মঙ্গলবার দুই দিন ভারত বাংলাদেশের প্যারেড অনুষ্ঠিত হয় যা সকল পর্যটককে আকৃষ্ট করে। ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই দুইদিন তালিকায় থাকলে এটিও দেখার সুযোগ পাবেন।
বাংলাবান্ধা ভ্রমণ শেষে রাতে চলে যেতে পারেন ডাকবাংলো অথবা মহানন্দা পার্কে, রাতের বেলা মহানন্দা নদীর পাশে বসে চায়ের চুমুকে সিমান্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। রাতের বেলা যেহেতু শীত বেশি থাকে অবশ্যই শীতের পোশাক নিয়েই যাবেন।
কেনাকাটা
সকলেই যেকোনো নতুন জায়গায় গেলে কেনাকাটার একটি বিষয় থাকে, সবাই পরিবারের জন্য কিছু নিয়ে যেতে চায়। এই অঞ্চল যেহেতু চায়ের অঞ্চল, এখানকার সমতলের চা পাতা পর্যটকরা বেশি কিনে থাকে, এখানে অনেক প্রকার চা পাতা পাওয়া যায়, চাইলে খেয়ে টেস্ট করেও নিতে পারবেন।
ভ্রমণে আসার আগে সবাই বাজেট নিয়ে চিন্তায় থাকে কিন্তু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অল্প বাজেটেই ঘুরে যেতে পারবেন এখান থেকে। এখানকার মানুষ -প্রকৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে।

রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় (তেঁতুলিয়া)