বিদ্যুৎ চলে গেলে পিসির প্লাগ খুলে রাখা কেন জরুরি
বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের বাতি, ফ্যান কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই টর্চ বা জরুরি আলো খোঁজেন। কিন্তু আপনার কম্পিউটারটি বিদ্যুতের সংযোগে লাগানো আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর আবার সংযোগ ফিরে আসার সময় তৈরি হওয়া ভোল্টেজের আকস্মিক ওঠানামা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ।
অনেকে মনে করেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো ঝুঁকি নেই। কিন্তু বাস্তবে কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও সেটি যদি দেয়ালের বৈদ্যুতিক সকেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, বিদ্যুৎ ফিরে আসার সময় সেই সংযোগ দিয়েই অতিরিক্ত ভোল্টেজ কম্পিউটারে পৌঁছাতে পারে।
মাদারবোর্ড, র্যাম ও এসএসডির মতো কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক সার্কিট থাকে। হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে গেলে এসব যন্ত্রাংশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় ঝুঁকি কোথায়?
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থির হয়ে যায় না। গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ, যন্ত্রপাতির ত্রুটি কিংবা সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করার মতো কারণে বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। এর আগে-পরে ভোল্টেজে হঠাৎ ওঠানামা হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বিদ্যুৎ পুনরায় সংযোগের সময়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ ফিরে এলে আকস্মিক ভোল্টেজ বৃদ্ধি বা পাওয়ার সার্জ কম্পিউটারের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশে ক্ষতি করতে পারে।
বজ্রপাতের কারণেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরাসরি বাড়িতে বজ্রপাত না হলেও আশপাশের বিদ্যুৎ লাইনে এর প্রভাব পড়তে পারে এবং ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ির সংযোগে পৌঁছাতে পারে।
শুধু কম্পিউটার বন্ধ করলেই কি নিরাপদ?
না কম্পিউটার বন্ধ করে রাখলেও যদি সেটি বৈদ্যুতিক সকেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, বিদ্যুৎ ফিরে আসার সময় ভোল্টেজ সার্জের ঝুঁকি থেকে যায়। আর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় কম্পিউটার চালু থাকলে তৈরি হতে পারে আরও একটি সমস্যা। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে তখন কম্পিউটারে কোনো ফাইল সংরক্ষণ বা হালনাগাদের কাজ চললে সেটি নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ চলার সময় এমন ঘটনা ঘটলে কম্পিউটার চালু হওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুরোনো ধরনের হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা কম্পিউটারে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে যান্ত্রিক অংশেও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিদ্যুৎ চলে গেলে কী করবেন?
ঝড়, বজ্রপাত বা বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকলে আগে থেকেই কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়ালের সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখা ভালো। বিদ্যুৎ ইতিমধ্যে চলে গেলেও প্লাগ খুলে দেওয়া যেতে পারে।
শুধু কম্পিউটার নয়, একইভাবে রাউটারের সংযোগও খুলে রাখা নিরাপদ। বৈদ্যুতিক ঝড়ের সময় রাউটারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। টেলিভিশনসহ অন্যান্য দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে।
ডেস্কটপ কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বা পিএসইউ বন্ধ করে দিলে কম্পিউটারের ভেতরে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ থাকে। তবে বজ্রপাতের মতো শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ঘটনায় শুধু পিএসইউ বন্ধ করাই যথেষ্ট নাও হতে পারে।
সার্জ প্রটেক্টর কতটা কাজে আসে?
কম্পিউটার সুরক্ষায় ভালো মানের সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ভোল্টেজের আকস্মিক বৃদ্ধি সামলাতে সাহায্য করে এবং কম্পিউটারের যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ঝুঁকি কমায়।
আরও সুরক্ষার জন্য ইউপিএস বা আনইন্টারাপ্টিবল পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করা যায়। ইউপিএস শুধু ভোল্টেজ সার্জ থেকে সুরক্ষাই দেয় না, বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারির মাধ্যমে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহও করে।
এর ফলে হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার বদলে কাজ সংরক্ষণ করে স্বাভাবিকভাবে কম্পিউটার বন্ধ করার সময় পাওয়া যায়। তবে ইউপিএস সাধারণত দীর্ঘ সময় কম্পিউটার চালিয়ে রাখার জন্য নয়; স্বল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় সুরক্ষা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
বাড়ির সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রকে সুরক্ষার আওতায় আনতে চাইলে বিদ্যুৎ প্যানেলে সার্জ প্রটেকশন ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য লাইসেন্সধারী ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
বিদ্যুৎ ফিরে এলে সঙ্গে সঙ্গে প্লাগ লাগাবেন না
বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরই সব যন্ত্রপাতি একসঙ্গে চালু না করাই ভালো। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে বিদ্যুৎ আবার চলে যাচ্ছে কি না। এরপর সার্জ প্রটেক্টরটি বৈদ্যুতিক সকেটে সংযোগ দিয়ে তাতে কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির প্লাগ লাগানো যেতে পারে।
কম্পিউটারের প্লাগ খুলতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু এই ছোট অভ্যাসই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় কম্পিউটারের দামি যন্ত্রাংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সার্জ প্রটেক্টর বা ইউপিএসের মতো অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও কমানো সম্ভব।
সূত্র: এনগ্যাজেট

ফিচার ডেস্ক