ইয়ামালের দাপটে চেকদের হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক স্পেনের
লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে বিস্ময়ের যেন শেষ নেই। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, চোখে লেগে থাকার মতো গোল, প্রতিটি ম্যাচেই নতুন কোনো চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হলো না।
উয়েফা নেশনস লিগে শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে স্পেন। এবারের আসরে এটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টানা তৃতীয় জয়। আর আগের দুই ম্যাচের মতো এবারও স্পেনের গোলের খাতা খুলেছেন ইয়ামাল।
ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটেই গোল করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ডান প্রান্ত থেকে দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়ার পর বক্সের বাইরে বল পান ইয়ামাল। প্রথম স্পর্শে কিছুটা জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের ওপরের কোণে। চেক গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
আগের দুই ম্যাচেও স্পেনের প্রথম গোলটি এসেছিল ইয়ামালের পা থেকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০৪ সেকেন্ডে এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ছয় মিনিট।
ইয়ামালের গোলের পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল ধরে রাখে স্পেন। ৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক রদ্রি। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর বাড়ানো বল চেক প্রজাতন্ত্রের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলালে সেটি পেয়ে যান রদ্রি। বক্সে ঢুকে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ওভেইদোতে প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামালও খেলেছেন কেবল প্রথম ৪৫ মিনিট। তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়।
বল দখল ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই থাকলেও আক্রমণে আগের মতো ধার দেখা যায়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় চেক প্রজাতন্ত্র।
৬৯ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজেকের পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করেন জিরি স্লামা। ব্যবধান ২-১ হওয়ার পর স্পেনের রক্ষণেও কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়।
৭২ মিনিটে তো সমতাও প্রায় ফিরিয়ে ফেলেছিল চেক প্রজাতন্ত্র। গোলরক্ষক দাভিদ রায়া কিছুটা এগিয়ে থাকার সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার শট নেন লিংর। বল গোলমুখে এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে ফিরে এসে সেটি ঠেকিয়ে দেন রায়া।
এরপর ম্যাচে আরও নাটক যোগ হয়। ৭৯ মিনিটে রায়ার হাত ফসকে যাওয়া বলে রায়ান নাদেরি জালে বল পাঠালেও লে নরমঁর ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হলুদ কার্ড দেখেন চেক অধিনায়ক ক্রেইচি।
ছয় মিনিট পর ফার্নান্দেজকে থামাতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ক্রেইচি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় চেক প্রজাতন্ত্র। শেষ মুহূর্তে স্পেনের চাপ সামলানো তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
অবশেষে ৮৯ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে স্পেন। ভিক্টর মুনোজের শট ঠেকিয়ে দেন চেক গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনো। স্পেনের জয় তখন নিশ্চিত হয়ে যায়।
এই জয়ে নেশনস লিগের ‘এ’ লিগের গ্রুপ ৩-এ তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল স্পেন। ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে ক্রোয়েশিয়া তৃতীয়। তিন ম্যাচ শেষে চেক প্রজাতন্ত্রের ঝুলিতে এখনো কোনো পয়েন্ট নেই।

স্পোর্টস ডেস্ক