গ্রিসের মাঠে জার্মানির গোল-খরা, হতাশার রাত
প্রতিপক্ষের মাঠে নেমেছিল জার্মানি। সঙ্গে ছিল পুরোনো হারের ক্ষত মুছে ফেলার তাড়না। বল পায়ে রেখে একের পর এক আক্রমণে গ্রিসকে চাপে ফেলছিল তারা। মনে হচ্ছিল, গোল যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ফুটবল সব সময় চিত্রনাট্য মেনে চলে না। থেসালোনিকির রাতটা শেষ পর্যন্ত জার্মানির জন্য হয়ে উঠল আরেকটি হতাশার গল্প।
অগসবুর্গে আগের ম্যাচে জার্মানির জালে বল জড়িয়েছিল গ্রিসই। নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে হেরে গ্রিকদের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছিল জার্মানি। সেই হারের ক্ষত মুছে ফেলার সুযোগ ছিল থেসালোনিকিতে ফিরতি ম্যাচে। কিন্তু এবারও জার্মানির আক্রমণভাগ গোলের দেখা পেল না।
ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে ২১টি শট নেয় জার্মানি। আক্রমণে ছিল তাদের স্পষ্ট আধিপত্য। কিন্তু এত সুযোগ ও চাপের পরও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসেনি। ফলে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে গোলশূন্য ড্র নিয়ে।
এই ড্রয়ে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে গ্রিসের। লিগ এ-এর গ্রুপ টু-এর পয়েন্ট তালিকায় জার্মানিকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করেছে তারা। চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে অপরাজিত গ্রিস। সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে জার্মানি। আর তলানির সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস।
তবে শেষ আটে ওঠার সমীকরণ এখনো জার্মানির নিয়ন্ত্রণেই। আগামী মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে সার্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। যদিও ডাগআউটে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর জার্মানির কোচ হিসেবে ক্লপের শুরুটা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রথম চার ম্যাচে জয় এসেছে মাত্র একটিতে।
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে জার্মানির দাপট। তবে শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল গ্রিস। গিওর্গিস মাসোউরাসের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক ইয়োনেস উরবিগ। সেই মুহূর্তে গোল হয়ে গেলে ম্যাচের গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত।
জার্মানিও একবার বল জালে পাঠিয়েছিল। ৩২ মিনিটে ক্রস থেকে গোল করেন জোনাথন বারকার্দত। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, গোলটির আগে জার্মান মিডফিল্ডার টম বিশচফ হ্যান্ডবল করেছিলেন। ফলে বাতিল হয়ে যায় গোলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। একের পর এক আক্রমণ করেও অবশ্য গ্রিসের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২১টি শট নিয়েও গোলশূন্য থাকতে হয় জার্মানিকে।
ম্যাচ শেষে জার্মান অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসও স্বীকার করেছেন, আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চাপ তৈরি করেছি, কিন্তু গোল করতে পারিনি। সব মিলিয়ে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে সন্তুষ্ট হওয়া যায়। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। তবে এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি।’
গ্রিসের বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরলেও তাই স্বস্তিতে থাকার সুযোগ কম জার্মানির। শেষ আটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও ধারালো হতে হবে তাদের। বিশেষ করে আক্রমণভাগের গোল-খরা কাটানোই এখন জার্মানির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্পোর্টস ডেস্ক