আক্রমণ আছে গোল নেই, বাংলাদেশের ভুলটা কোথায়?
আক্রমণে উঠছে বাংলাদেশ, সুযোগও তৈরি করছে। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল নিয়ে যাচ্ছে, কর্নার আদায় করছে। কিন্তু গোলমুখে গেলেই যেন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তের পাস, শট কিংবা ফিনিশিংয়ে ভুলের কারণে সুযোগগুলো আর গোলে রূপ নিচ্ছে না। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেল সেই পুরোনো চিত্র।
গত বছর বাংলাদেশ জাতীয় দল ম্যাচ খেলেছিল আটটি। এর মধ্যে ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল দুটি ম্যাচে। চারটি ম্যাচ ড্র এবং দুটি ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফল খুব উজ্জ্বল না হলেও ওই ম্যাচগুলোতে লড়াইয়ের ছাপ ছিল। প্রতিপক্ষ গোল করলে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টাও দেখা গেছে।
চলতি বছরে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মার্চে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে চার গোল হজম করলেও গোল করতে পারেনি একটিও। জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আবারও পুরোনো সমস্যাই সামনে এসেছে।
আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও বাংলাদেশ আক্রমণে উঠেছে বেশ কয়েকবার। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নয়টি কর্নারও পেয়েছে দলটি। কিন্তু এসব সুযোগ থেকে গোল বের করে আনতে পারেনি টমাস ডুলির দল।
১৯ মিনিটে রাকিব হোসেন এবং ৬৪ মিনিটে শমিত সোমের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের আক্রমণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিকবার সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৪৬ থেকে ৭৯ মিনিটের মধ্যে কয়েকটি ভালো আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে সেগুলো কাজে লাগানো যায়নি।
রক্ষণে অবশ্য বাংলাদেশের লড়াই ছিল। ১৭ মিনিটে মেহেদী হাসানের সেভ, ১৮ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার ব্লক এবং ৩৩ মিনিটে মেহেদীর আরেকটি সেভের সঙ্গে তারিক কাজীর ব্লক বাংলাদেশকে আরও বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেভ করেছেন মেহেদী।
ফলে ম্যাচে বাংলাদেশের মূল সমস্যা সুযোগ তৈরি করা নয়। বরং তৈরি হওয়া সুযোগকে গোলে পরিণত করতে না পারাই বড় দুর্বলতা হয়ে দেখা দিয়েছে। সিঙ্গাপুর একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল পেয়েছে, বাংলাদেশ পারেনি। ম্যাচের ফলের পার্থক্যও তৈরি হয়েছে সেখানেই।
সান মারিনোর বিপক্ষে পাওয়া জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আবারও সামনে এসেছে একই প্রশ্ন, বাংলাদেশের আসলে ভুলটা কোথায়?
উত্তরটা আপাতত গোলমুখেই খুঁজতে হচ্ছে। আক্রমণ আছে, চেষ্টা আছে, সুযোগ তৈরির সামর্থ্যও আছে। কিন্তু শেষ পাস, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই আক্রমণগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারছে না বাংলাদেশকে।

স্পোর্টস ডেস্ক