এশিয়ান গেমস
অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে চান না বাটলার
এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল ইভেন্টের গ্রুপ পর্বের চার দলের মধ্যে কাগজে-কলমে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে থাকা উত্তর কোরিয়া এশিয়ান গেমসের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে তিনটি ব্রোঞ্জ পদক। এমনকি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছে মিয়ানমারও।
বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার বরাবরই বাস্তবতায় বিশ্বাসী। তাই এমন পরিস্থিতিতে অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে চান না তিনি। খেলাটি উপভোগ করাই হবে দলের মূল লক্ষ্য।
জাপানের আইচি-নাগোয়াতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমসের মূল আসর শুরু হলেও ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো কিছু ইভেন্টের খেলা মাঠে গড়াবে আগেভাগেই।
সূচী অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের এশিয়ান গেমসের মিশন শুরু করবে লাল-সবুজের দল। ম্যাচের আগের দিন আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন কোচ বাটলার।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি। আমরা খুব ভালো করেই জানি যে, আমরা কতটা কঠিন একটি গ্রুপে খেলছি। এই গ্রুপে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে। এমনকি র্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। আমাদের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তবে এত বড় চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমরা চাই মেয়েরা খেলাটি পুরোপুরি উপভোগ করুক।’
তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমাদের দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণীও রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল শেষ পর্যন্ত যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণীকে মাঠে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ দিতে চাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বিশাল মঞ্চ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের সামগ্রিক মান উন্নত করা।’
গত মার্চে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে এই উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেই ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারের আসরের শুরুতেই আবারও সেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে দল। তবে কোচের প্রত্যাশা, গতবারের তুলনায় এবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দল আরও গোছানো ও ভালো ফুটবল খেলবে। পাশাপাশি গ্রুপে তাদের আসল লড়াইটা যে মিয়ানমারের বিপক্ষেই, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই ইংলিশ কোচ।
বাটলারের বলেন, ‘গত এশিয়ান কাপে আমরা তাদের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। সেবার আমরা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলাম এবং একদমই ভালো খেলতে পারিনি। তবে সেই বড় হারটি আমাদের তরুণ মেয়েদের জন্য অনেক বড় একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের সবসময় বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের দেশে তো মেয়েদের জন্য সেভাবে নিয়মিত কোনো লিগই চালু নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে বড় কোনো অলৌকিক জয়ের আশা না করে বাস্তববাদী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের অভিজ্ঞাতা মিয়ানমারের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চান বাটলার। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে পজিটিভ থেকে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটাই উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, উত্তর কোরিয়া ম্যাচের এই অভিজ্ঞতা টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে আমাদের কতটা কাজে লাগে।’

স্পোর্টস ডেস্ক