আবারও কেন্টের জয়ের নায়ক হাসান মাহমুদ
হাসান মাহমুদকে কাউন্টির দল কেন্টের ‘দ্য ক্রাইসিস ম্যান’ বলাই যায়। অন্তত এই ম্যাচের জন্য তো, সেটাই করেছেন। যখনই দলের প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি বলহাতে সফলতা এনে দিয়েছেন। দিনের শুরু, মাঝে আর শেষে-- তিন উইকেট শিকার করে কেন্টের জয়ের নায়ক বনে গেছেন হাসান।
দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান শিকার ধরেছেন তিনটি। এর আগে প্রথম ইনিংসেও এই টাইগার পেসার শিকার করেছিলেন চার উইকেট। সবমিলিয়ে ম্যাচে তার উইকেট ৭টি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ছয় ছয় উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ বোলার মিল্নস। আর দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ডাজন নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।
দারুণ পারফরম্যান্সে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর এই ম্যাচে উস্টারশায়ারকে ৮৪ রানে হারিয়েছে কেন্ট। ডিভিশন ওয়ানে ওঠার লড়াইয়ে এই জয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন্টের জন্য।
জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে উস্টারশায়ারের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮০ রান। তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৪ রান। তখন অবশ্য উইকেটের খাতা খুলতে পারেননি হাসান।
তবে নতুন দিনে খেলা শুরু হতেই দলকে স্বস্তি এনে দেন তিনি। অ্যাডাম হোস ও ডি’অলিভেইরার ৭৬ রানের জুটি ভাঙেন হাসান। দিনের প্রথম ওভারেই তার ভেতরে ঢোকা বল মিস করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অ্যাডাম হোসে। ফেরেন ৩৮ রান করে।
এরপরও উস্টারশায়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ডি’অলিভেইরার সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে দুইশ পার করেন হেনরি কালেন। এই জুটি যখন ম্যাচের রঙ বদলে দিতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন হাসান। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে মুহূর্তেই উড়ে যায় ৪৫ রান করা হেনরি কোলেনের অফ স্টাম্প।
৮৬ রানের সেই জুটি ভাঙার পরও জয়ের পথ সহজ ছিল না। ডি’অলিভেইরা ও ম্যাথু ওয়েট মিলে গড়ে তোলেন আরেকটি প্রতিরোধ। একপর্যায়ে উস্টারশায়ারের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৬৫ রান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১৫ রান। তবে এবার ৬৪ রানের বিপজ্জনক জুটি ভেঙে ব্যবধান কমিয়ে দেন ডাজন।
এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি উস্টার। ডাজন টানা দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নেন। আর দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই নিচু হওয়া এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বেন অ্যালিসনকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান।
এরপর শেষ ব্যাটার অ্যাডাম ফিঞ্চকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে কেন্টের জয় নিশ্চিত করেন মিল্নস। মাত্র ৩০ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় উস্টারশায়ার।
গত জুনে কাউন্টিতে অভিষেক ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জিতিয়েছিলেন হাসান। পরের ম্যাচেও ৩ উইকেট নিয়ে অবদান রাখেন জয়ে। এরপর জাতীয় দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফর শেষে কাউন্টিতে ফিরে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে তিনটি ম্যাচ খেলেন।
পরবর্তীতে ফের জাতীয় দলের জার্সিতে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হন তিনি। আর সেখান থেকে কাউন্টিতে ফিরে আবারও নিজের জাত চেনালেন এই পেসার।
এদিকে কেন্টে এখন হাসানের সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদও। তবে এই ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। কাউন্টির নিয়মানুযায়ী, এক ম্যাচে সর্বোচ্চ দুজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো যায়, যে কারণে হাসানের সঙ্গে কেন্ট একাদশে সুযোগ দেয় প্রোটিয়া পেসার ডাজনকে।
চলতি মৌসুমে কেন্টের সামনে বাকি আছে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। ডিভিশন টু থেকে প্রতি বছর দুটি দল ডিভিশন ওয়ানে খেলার সুযোগ পায়। ১১ ম্যাচে ১৫৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে কেন্ট। ১৫৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে নর্থ্যাম্পটন, আর ২১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ডারহামের প্রমোশন একপ্রকার নিশ্চিতই বলা চলে।
লিগের পরের তিন ম্যাচে কেন্টের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে তলানির দল ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লস্টারশায়ার।

স্পোর্টস ডেস্ক