মেসির জাদুতে গোল উৎসব করল মায়ামি
বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে লিওনেল মেসি মাঠে ফিরেছিলেন আরও কিছুদিন আগেই। কিন্তু চেনা সেই ছন্দটা ঠিক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মেসি ফিরলেন পুরোনো সেই ভয়ঙ্কর রূপে। আর এতে রীতিমতো বাকরুদ্ধ ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা ধারাভাষ্যকাররা। শুধু বলতে পারলেন, ‘অবিশ্বাস্য... কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না, উনি মানুষ নন, অন্য কোনো গ্রহের কেউ...।’
ইন্টার মায়ামির হয়ে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার এদিন যা করেছেন, তা আসলে বাকরুদ্ধ হওয়ার মতোই। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে-খেলা করলেন মেসি। একাই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ালেন চারবার।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় ভোরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে সিএফ মন্ট্রিয়ালকে ৭-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। গত ২৫ জুলাইয়ের পর এটিই মায়ামির প্রথম জয়। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখল দলটি।
দারুণ এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ফুটবল ক্যারিয়ারে এ নিয়ে নবমবারের মতো এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন মেসি। চলতি লিগ আসরে ইতোমধ্যে ১৮টি গোল করে গোলদাতাদের তালিকার একদম শীর্ষে উঠে গেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।
মায়ামির ৭ গোলের ৪টিই এসেছে মেসির পা থেকে। যার দুটি ফ্রি-কিক এবং একটি জাদুকরী কারিকুরিতে করা একক নৈপুণ্যের গোল। এছাড়া সতীর্থদের দিয়ে একটি গোল করিয়েছেন তিনি। মায়ামির পক্ষে বাকি তিন গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যাসেমিরো, লুইস সুয়ারেস ও তরুণ মিডফিল্ডার আলেক্সান্ডার শ।
ম্যাচের শুরুতে ঘরের মাঠে মায়ামি কিছুটা দেখেশুনে খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়। ম্যাচের নবম মিনিটেই লিড পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া নিখুঁত শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
১৯তম মিনিটে কর্নার থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়ার হেড বারে লেগে ফেরার পর ফিরতি বলে ভলি করেন হার্মান বের্তেরাম। সেটিও প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়। তবে এর পরপরই কর্নারের জটলা থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে জড়িয়ে মায়ামিকে এগিয়ে নেন ক্যাসেমিরো।
খেলার ৩৭তম মিনিটে সমতায় ফেরে মন্ট্রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে ফাবিয়ান হার্বাসের শট জোরালো না হলেও মায়ামির এক ডিফেন্ডারের পায়ে সামান্য লেগে দিক পাল্টে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে জালে ঢুকে যায়।
তবে সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি মায়ামি। মিনিট তিনেক পরেই ফ্রি-কিক থেকে গোল পায় তারা। মেসির নেওয়া শট খুব বেশি জোরালো না হলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পায়ে সামান্য ছোঁয়া লেগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে আশ্রয় নেয়। যদিও শুরুতে আত্মঘাতী গোলের সংশয় ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত গোলটি মেসির নামেই যোগ করা হয়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে মেসির আরও কয়েকটি আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়েনি। তবে বিরতির পর পুরো ম্যাচটাই একপেশে করে তোলে মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একক নৈপুণ্যের গোলটি করেন মেসি। বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে মন্ট্রিয়ালের একাধিক ডিফেন্ডারকে একের পর এক ড্রিবলিংয়ে বোকা বানান তিনি। রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল তার কারিকুরি। ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে লুইস সুয়ারেসের একটি শট রুখে দিলেও বেশিক্ষণ আটকিয়ে রাখতে পারেননি মন্ট্রিয়াল গোলরক্ষক। ৮০তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মেসির বাড়ানো চমৎকার এক লং বল থেকে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল পেয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন উরুগুইয়ান তারকা সুয়ারেস।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। থ্রু বল ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
মায়ামির ষষ্ঠ গোলটি আসে বদলি নামা তরুণ ফুটবলার শ-এর পা থেকে। ৮৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের নেওয়া গড়ানো শটটি গোলরক্ষক আর আটকাতে পারেননি।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। বাঁ পায়ের চিরচেনা সেই বাঁকানো শটে গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই না দিয়ে নিজের চতুর্থ ও দলের সপ্তম গোলটি পূর্ণ করেন মেসি।
এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট বেশি নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ন্যাশভিল।

স্পোর্টস ডেস্ক