মেসির জাদু বনাম কেইনের গোল ক্ষুধা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই নায়কদের মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে এবার মুখোমুখি দুই মহাতারকা। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন। একজনের সামনে বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ। অন্যজনের লক্ষ্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তোলা। গোল, নেতৃত্ব আর উত্তরাধিকারের এই লড়াইয়ে নব্বই মিনিটের মহারণ ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন দুই অধিনায়কই।
মেসি ও কেইনের গল্প দুই ভিন্ন পথের। একজন বহু বছর ধরে ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে থেকে গড়েছেন কিংবদন্তির অধ্যায়, অন্যজন পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আধুনিক সময়ের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে। এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাদের লড়াই তাই শুধু দলের জয়ের হিসাব নয়। ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বেরও পরীক্ষা।
অর্জনের বিচারে মেসি অনেকটাই এগিয়ে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার শিরোপা ৪৭টি। যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বাধিক শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়ের আসনে বসিয়েছে। অন্যদিকে, কেইনের ঝুলিতে রয়েছে চারটি শিরোপা, সবকটিই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে। টটেনহ্যাম কিংবা ইংল্যান্ডের জার্সিতে এখনও বড় কোনো ট্রফির দেখা পাননি তিনি।
ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকেও মেসির আধিপত্য স্পষ্ট। বার্সেলোনার হয়ে ছয়বার ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। অন্যদিকে, কেইন ২০২৬ সালে জিতেছেন নিজের দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল করে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে গোলের লড়াইয়েও দুই তারকা আলো ছড়াচ্ছেন। কেইনের গোল ছয়টি, আর মেসির গোল আটটি। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের ইতিহাসে অবশ্য কেইন এগিয়ে। ২০১৮ সালে ছয় গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, এত বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়েও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এখনও অধরা মেসির।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দুই অধিনায়কের পরিসংখ্যান তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। মেসির নামের পাশে রয়েছে ২০৫ ম্যাচে ১২৫ গোল। অন্যদিকে, কেইন ১২০ ম্যাচে করেছেন ৮৫ গোল। ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে ইংলিশ অধিনায়ক কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক অর্জন, প্রভাব ও ফুটবল ইতিহাসে অবস্থানের বিচারে মেসি রয়েছেন অনন্য উচ্চতায়।
তবে এই লড়াই শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, সময়েরও লড়াই। ৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি বিশ্বকাপের শেষ সেমিফাইনাল। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার শেষ বড় সুযোগ এটি। অন্যদিকে, ৩২ বছর বয়সী কেইনের সামনে রয়েছে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর চ্যালেঞ্জ।
একজনের সামনে শেষ অধ্যায়কে স্মরণীয় করার সুযোগ, অন্যজনের সামনে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ। বিশ্বকাপের আলো যখন সেমিফাইনালের মঞ্চে, তখন সব নজর থাকবে মেসি ও কেইনের দিকে। গোলদাতার এই দ্বৈরথে কে হাসবেন শেষ হাসি, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।

স্পোর্টস ডেস্ক