ভিনিসিয়াসের পেনাল্টি না নেওয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হারের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ম্যাচের শুরুতে পাওয়া সেই পেনাল্টি মিস।
ম্যাথিউস কুনিয়া ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করেছিলেন। স্পটের কাছে বল নিয়ে কিছুক্ষণ আলাপ করলেন ভিনিসিয়স জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েস। এরপর নিজে শট না নিয়ে ভিনিসিয়া বল তুলে দিয়েছিলেন ব্রুনো গিমারায়েসের হাতে। আর ব্রুনোর সেই শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে পাওয়া সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে ম্যাচের মোড় হয়তো অন্যরকম হতে পারত। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠে ভিনিসিয়াস থাকা সত্ত্বেও কেন পেনাল্টি নিলেন ব্রুনো? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
আনচেলত্তি জানান, আবেগের চেয়ে পরিসংখ্যানে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক বছরের পেনাল্টি পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন নেইমার, ইগোর থিয়াগো ও রাফিনিয়া। এরপরই ছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। তাই মাঠের পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম বিচার করেই ব্রুনোকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।’
পরিসংখ্যান বলছে, গত মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে ব্রুনো পেনাল্টিতে সফল ছিলেন। যদিও তিনি দলের প্রধান পেনাল্টি টেকার ছিলেন না, তবুও কোচিং স্টাফের কাছে তিনি সেই মুহূর্তে ভরসাযোগ্য মনে হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ভিনিসিয়াস রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে সাতটির মধ্যে পাঁচটি পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়েও তার পেনাল্টি রেকর্ড ভালো। তবুও কোচিং প্যানেল পরিসংখ্যানের বিচারে ব্রুনোকেই এগিয়ে রেখেছিল।
নেইমার, রাফিনিয়া কিংবা ইগো থিয়াগোর মতো মূল পেনাল্টি টেকাররা সেই সময়ে মাঠে না থাকায় পেনাল্টির দায়িত্ব পড়ে ব্রুনোর কাঁধে। তবে সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শুরুতে গোল পেতে ব্যর্থ হওয়ায় আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরেছিল সেলেসাওদের।

স্পোর্টস ডেস্ক