১৯৯৮-এর স্মৃতি মুছে শেষ আটে যেতে চায় ব্রাজিল
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের স্মৃতি এখনও ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের এক তিক্ত অধ্যায়। প্রায় তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তবে এবার সমীকরণ ভিন্ন। শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে জয় মানেই কোয়ার্টার ফাইনাল আর হার মানেই বিদায়।
একদিকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং, হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডকে সামনে রেখে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় নরওয়ের। আজ রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে সহজ সময় কাটাতে পারেনি ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলে শেষ ষোলোর লড়াই নিশ্চিত করে আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রুনো গিমারাইস। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চারটি অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ এখনও পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, নেইমার, রাফিনিয়া, ম্যাথিউস কুনিয়া ও এন্দ্রিকের মতো তারকায় ভরা আক্রমণভাগ থাকলেও গোলের সামনে কার্যকারিতায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। যদিও দলটি নিয়মিত ভালো মানের সুযোগ তৈরি করছে। যা আনচেলত্তির জন্য স্বস্তির খবর।
অভিজ্ঞতার বিচারে নিঃসন্দেহে এগিয়ে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। তবে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউট পর্বের সাম্প্রতিক ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউটে টানা ছয়বার ইউরোপের দলের কাছে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সেই হতাশার অধ্যায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল।
অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে নরওয়ে। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্টালে সলবাকেনের দল। সেই ম্যাচে ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হলান্ড।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হলান্ড টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫। ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন তিনি।
হলান্ডের পাশাপাশি নরওয়ের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা মার্টিন ওডেগার্ডও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আন্তোনিও নুসার গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ব্রাজিলের বিপক্ষেও অ্যাসিস্ট করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করার অনন্য এক রেকর্ড গড়বেন নরওয়ের অধিনায়ক।
তবে নরওয়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা তাদের রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি চার ম্যাচেই গোল হজম করেছে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, নেইমার ও রাফিনিয়াদের মতো আক্রমণভাগের ফুটবলারদের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বড় মূল্য চুকাতে বাধ্য করতে পারে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে নরওয়ে। দুই দলের আগের চার দেখায় নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতিও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে ইউরোপের দলটিকে।
ব্রাজিল কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। হলান্ডের গোল করার ধার, ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং নরওয়ের আত্মবিশ্বাস ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে আনচেলত্তির দলকে খেলতে হবে নিজেদের সেরা ফুটবল।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ব্রাজিল: অ্যালিসন বেকার, দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ম্যাথিউস কুনিয়া, রাফিনিয়া, এন্ড্রিক, ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
নরওয়ে: ওরইয়ান নিল্যান্ড, জুলিয়ান রাইয়ারসন, লিও অস্তিগার্ড, ক্রিস্টোফার আজের, ডেভিড মোলার উলফ, সান্দার বের্গে, প্যাট্রিক বার্গ, মার্টিন ওডেগার্ড, অস্কার বব, আর্লিং হলান্ড, আন্তোনিও নুসা।

স্পোর্টস ডেস্ক