কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচে হিউস্টনের স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবমুখর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। কানাডা ও মরক্কো মুখোমুখি হতেই শুরু হয় কৌশলগত লড়াই। যেখানে দুই দলই আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি রক্ষণে রাখে বাড়তি সতর্কতা। পুরো প্রথমার্ধজুড়ে মাঝমাঠে চলেছে দখলের লড়াই, একের পর এক প্রেসিংয়ে ভেস্তে গেছে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা। গোলের খুব বেশি সুযোগ না থাকায় বিরতিতে ম্যাচটি গোলশূন্য অবস্থায় পৌঁছায়। আর দর্শকদের অপেক্ষা বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তার জন্য।
ম্যাচের শুরুটা ছিল কানাডার দাপটেই। জেসি মার্শের দল উচ্চ লাইন ধরে আক্রমণাত্মক প্রেসিং শুরু করে মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। শুরুতেই তারা কয়েকটি দ্রুত আক্রমণ ও শটের মাধ্যমে মরক্কোকে ব্যস্ত করে তোলে। তবে গোলের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, যিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
প্রথমার্ধের বড় ধাক্কা ছিল মরক্কোর জন্য। গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। যা দলের ছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলে। এরপরও ধীরে ধীরে তারা ম্যাচে ফিরে আসে এবং কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর কৌশলে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিরতির আগে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৫০তম মিনিটে আজ্জেদিন ওউনাহি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে মরক্কোকে এগিয়ে নেন। গোলের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয়। কানাডা সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও মরক্কোর রক্ষণ ছিল দৃঢ় ও সংগঠিত।
৮২তম মিনিটে আবারও আঘাত হানেন ওউনাহি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। যা ম্যাচে কানাডার ফিরে আসার সব আশা শেষ করে দেয়।
যোগ করা সময়ের ৮ম মিনিটে (৯০+৮) সৌফিয়ান রহিমি তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। শেষ মুহূর্তের এই আঘাতে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো।
মাঝমাঠে দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই ও একাধিক শারীরিক দ্বন্দ্ব, তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতায় এগিয়ে থেকে ম্যাচ জিতে নেয় মরক্কো। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।

স্পোর্টস ডেস্ক