ফ্রান্সকে থামানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি প্যারাগুয়ে
একদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। অন্যদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা প্যারাগুয়ে। এমন দুই ভিন্ন বাস্তবতার দলের লড়াইয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জমে উঠতে পারে আরেকটি ম্যাচ। শক্তি, অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডে এগিয়ে ফ্রান্স। তবে আত্মবিশ্বাসে টগবগে প্যারাগুয়ে নামছে অঘটনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার (৪ জুলাই) দিনগত রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে।
গুস্তাভো আলফারোর দল শেষ ৩২ পর্বে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতা থাকার পর পেনাল্টিতে জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ের দ্বিতীয় জয়। ২০১০ সালের পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাতছানি তাদের সামনে।
প্যারাগুয়ের আক্রমণের মূল ভরসা হুলিও এনসিসো। এবারের বিশ্বকাপে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টসহ তিনটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি শট, সুযোগ সৃষ্টি, সফল ড্রিবল এবং প্রতিপক্ষের বক্সে সর্বাধিক স্পর্শও তার। জার্মানির বিপক্ষে তার গোলটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে প্যারাগুয়ের প্রথম গোল।
গোল করার ধারাবাহিকতা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে আলফারোর দলের। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ সাত ম্যাচের কোনোটিতেই একটির বেশি গোল করতে পারেনি প্যারাগুয়ে। তাই শক্তিশালী ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে তাদের বাড়তি কিছু করে দেখাতে হবে।
অন্যদিকে আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। শেষ ৩২ পর্বে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন। আর একটি গোল করেছেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স চারটি ম্যাচেই অন্তত তিনটি করে গোল করেছে।
এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেকে ঘিরেই ফ্রান্সের আক্রমণের ধার। এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত আটটি গোলে, দেম্বেলে ছয়টি এবং অলিসে পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। ২০০২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপে কোনো দলের তিনজন খেলোয়াড় পাঁচ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।
বিশেষ নজর থাকবে মাইকেল অলিসের দিকে। তিনি ইতোমধ্যে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেই ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন এই ফরাসি উইঙ্গার।
ইতিহাসও ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের আগের পাঁচ দেখায় ফরাসিরা জিতেছে তিনটি। বাকি দুটি ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দুইবারই জয় পেয়েছে ফ্রান্স ১৯৫৮ সালে ৭-৩ এবং ১৯৯৮ সালে ১-০ ব্যবধানে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ১৯৭৮ সালের পর আর হারেনি ফ্রান্স (টাইব্রেকার বাদে)।
সবদিক বিবেচনায় ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ফ্রান্স। তবে জার্মানিকে বিদায় দিয়ে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে প্যারাগুয়ে। সেটিকে পুঁজি করে আরও একটি রূপকথা লেখার লক্ষ্য থাকবে আলফারোর শিষ্যদের।
সম্ভাব্য একাদশ
ফ্রান্স
মাইক মেইনিয়াঁ; জুল কুন্দে, ইব্রাহিমা কোনাতে, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ; অরেলিয়ান চুয়ামেনি, এন'গোলো কান্তে, আদ্রিয়েন রাবিও; মাইকেল অলিসে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে।
প্যারাগুয়ে
রবার্তো ফার্নান্দেস; হুয়ান হোসে কাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ, ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো; আন্দ্রেস কুবাস, দিয়েগো গোমেজ; মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো, রামন সোসা; আন্তোনিও সানাব্রিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক