দশজনের দল নিয়েও বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র
ক্ষণে ক্ষণেই রঙ বদলাল ম্যাচের। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল দ্বিতীয়ার্ধে। ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় সেই সুযোগ যেন আরও ভালোভাবে ধরা দিল বসনিয়ার কাছে। কিন্তু দশ জনের যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও সুবিধা করতে পারল না তারা। উল্টো আরও এক গোল হজম করে ছিঠকে পড়ল ম্যাচ থেকে। আর শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দুই দলের নাটকীয় লড়াই শেষে ববসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ৪৮ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৮টি শট নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে অবশ্য ২টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। সেখান থেকেই আদায় করে নেয় গোল। বিপরীতে, ৫২ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য মোটে ১০টি শট নেয় বসনিয়া। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৩টি। অবশ্য প্রথমার্ধে মোটে একটি শট নিতে পেরেছিল বসনিয়া।
ম্যাচের দশম মিনিটে আক্রমণে উঠে গোলের জন্য শট নিয়েছিল বসনিয়া। সেটি আটকে দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক। পরের মিনিটে কর্ণার থেকে সরাসরি গোলের জন্য চেষ্টা করেছিল তারা। সেটিও আটকে দেন গোলরক্ষক।
এরপর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ক্রমেই বল দখলে একক আধিপত্য তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। বল দখলে রেখে বসনিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। সেটির সুফলও পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ডি-বক্সের সামনে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় সেটি জালে জড়ান বালোগান। তবে, লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে বিরতির ঠিক আগে দলকে ঠিকই লিড এনে দেন বালোগান। বসনিয়া ডিফেন্ডারের ভুল কাজে লাগিয়ে একক দক্ষতায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বসনিয়া। এই অর্ধে বলের দখল বাড়িয়ে আক্রমণেও জোড় দেয় তারা। যদিও গোল পাচ্ছিল না। তবে সেই আক্রমণ আটকাতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনেন বালোগান। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহামেরোভিচকে বিপজ্জনক ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগান। প্রথমে রেফারি কার্ড না দেখালেও ভিএআর মনিটর দেখে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পরও কার্যকর কিছু করতে পারছিল না বসনিয়া। উল্টো ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বসনিয়ার জালে বল জড়িয়েছিলেন পুলিসিক। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর চার মিনিট পর ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুন করে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের একটি আক্রমণ আটকাতে গিয়ে ৮২তম মিনিটে বক্সের সামনে ফাউল করেন বসনিয়ার ফুটবলার। বিপজ্জনক জায়গায় পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে দেন মালিক টিলম্যান। গোলরক্ষক বলের লাইনেই ঝাপিয়ে পড়েছিলেন তবে গতির সঙ্গে পরাস্ত হন তিনি।
শেষদিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আর কোনো ব্যবধান গড়তে পারেনি বসনিয়া। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে মেতে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।

স্পোর্টস ডেস্ক