ঘানার উল্লাস থামিয়ে শেষ হাসি ক্রোয়েশিয়ার, নকআউটে দুই দলই
সমীকরণ মেলানোর ম্যাচের শুরুটা হলো ঢিমেতালে। প্রথমার্ধে তেমন কোনো আক্রমণই চোখে পড়ল না। তবুও সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেল ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে বদলাল সেই চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সুফলও পেল ঘানা। তবে, উল্লাসকে হতাশায় পর্যবসিত করে ম্যাচের লাগাম নিজেদের কাছে নিল ক্রোয়াটরা। জয় তুলে নিয়ে নকআউটে গেল গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে।
আজ রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে মুখোমুখি হয়েছে ঘানা আর ক্রোয়েশিয়া। শেষের রোমাঞ্চ শেষে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় আর এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে, সমান একটি করে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে কোয়ালিফাই করেছে ঘানা। আর তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুটা হয় ঢিলেঢালা ভাবে। দুই দলই বলের দখল রেখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথম ১৫ মিনিট দেখা মেলে এই দৃশ্যের। এই সময়ে কোনো দলই গোলেও শট নিতে পারেনি।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে এসে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় ক্রোয়েশিয়া। বামপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ওপরে উঠে ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে থাকা নিকোলা ভ্লাশিচকে খুঁজে নেন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার। ফাঁকায় থাকা ক্রোয়াট মিডফিল্ডার সেখান থেকেই দূরের পোস্টে কোনাকুণি শট নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ফেরত আসে গোলবারে লেগে।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে লিড এনে দেন পিটার সুচিচ। বামপ্রান্ত থেকে মাতেও কোভাচিচ পাস দেন সুচিচকে। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে আচমকাই শট নেন তিনি। মাটি কামড়ে গোলবারের কোনা দিয়ে গিয়ে জালে জড়ায় বল। গোলরক্ষক ঝাপিয়ে পড়েও সেটি আটকাতে পারেনি। অবশ্য আরেকটু ভালো করার সুযোগ ছিল তার।
গোল পেয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ক্রোয়েশিয়া। বামপ্রান্ত ধরে আরও কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে ক্রোয়াটরা। যদিও সফল হতে পারেনি আর। আটকে গেছে ঘানার রক্ষণে।
ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে ভীতি ছড়ান অ্যান্টনি সেমেনিও। বল নিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে দূরের পোস্টে শট নিয়েছিলেন তিনি। দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বল বেড়িয়েও গিয়েছিল। কিন্তু চলে যায় গোলবারের সামান্য বাইরে দিয়ে। ম্যাচে এটাই ছিল ঘানার প্রথম ভালো আক্রমণ।
পরে আরও দুয়েকবার চেষ্টা চালিয়ে গোল পরিশোধ করার। তবে সফল হতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ক্রোয়েশিয়া।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় ঘানা। ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করছিল তারা। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ তৈরি করেছিল ঘানা। মাঝমাঠ থেকে লং বল বাড়িয়েছিল লেফট উইংয়ে। সেখান থেকে ক্রোয়াট ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের মধ্যে দারুণ একটি ক্রস বাড়িয়েছিল ঘানার এক ফুটবলার। কিন্তু সেটা সতীর্থকে খুঁজে পাওয়ার আগেই ক্লিয়ার করে দেন লুকা মদ্রিচ।
ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে সুফল পায় ঘানা, ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল প্লেসিং শটে দারুণ ফিনিশিংয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন ডেরিক লুকাশেন। ঘানা যখন উদযাপন করছিল তখনই নেমে আসে নাটকীয়তা। অফসাইডের জোড়ালো আবেদন করে ক্রোয়াটরা। মিনিট দুয়েক ভিএআর চেক করে গোলের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন রেফারি।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিল ঘানা। ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। বক্সের সামনে থেকে বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন মারিও পাশালিচ। দারুণ দক্ষতায় কর্ণারের বিনিময়ে সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক।
ঘানার বিপদ ঘটে কর্ণার থেকে। ডানপ্রান্ত থেকে লুকা মদ্রিচের নেওয়া কর্ণার কিক থেকে উড়ে আসা বল ঘানার তিন ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে উঠে হেডারে জালে জড়ান নিকোলা ভ্লাশিচ। এমন নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। আবারও ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া।
শেস দিকে কয়েকটি আক্রমণ করে ঘানা। তবে গোল আর আদায় করে নিতে পারেনি তারা। ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক