দাপুটে ফুটবলে লিড নিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল, কোণঠাসা স্কটল্যান্ড
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে হলে স্কটল্যান্ডকে হারাতেই হবে ব্রাজিলকে। শুরু থেকেই আক্রমণের ধারায় সেই লক্ষ্য দেখা গেলো। লিডও পেয়ে গেলো সেলেসাওরা। এরপর আরও দু’বার স্কটল্যান্ডের জালে বল জড়ালেও গোল পেল একটি। তবে দাপুটে প্রথমার্ধে লিড নিয়ে বিরতিতে গেছে ব্রাজিল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল আর স্কটল্যান্ড। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে ব্রাজিল।
ম্যাচে প্রথম আক্রমণটা করে ব্রাজিল। পঞ্চম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। তার ক্রস ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার আগেই বল গ্লাভসবন্দি করেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ডি-বক্স থেকে সতীর্থকে পাস দিচ্ছিলেন স্কটিশ ডিফেন্ডার। সেখানে চাপ প্রয়োগ করেন রায়ান। বল রায়ানের পায়ে লেগে চলে যায় বক্সেই থাকা ভিনিসিয়াসের কাছে। গোলরক্ষকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে আবারও আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। ডানপ্রান্ত্র দিয়ে ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং করে এগিয়ে যান রায়ান আর ভিনিসিয়াস। বক্সের মাথায় থেকে ভিনিসিয়াস শট নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে আবারও স্কটল্যন্ডের জালে বল জড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়াস। আবারও বল নিজের পায়ে রেখে সতীর্থকে পাস দিতে গিয়ে ভুল করেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার হেনরি। পেছন থেকে গিয়ে বল কেড়ে নিয়ে গোলরক্ষকে ফাঁকি দিয়ে জাল খুঁজে নেন ভিনি।
তবে মিনিট খানিক পরে ভিএআর মনিটর চেক করেন রেফারি। সেখানে দেখা যায় বল কেড়ে নেওয়ার সময় ফাউল করেছিলেন ভিনি। যে কারণে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে কর্ণার পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে সেখান থেকে বিপদ ঘটাতে পারেননি তারা। নির্ভার থেকেই বল বিপদমুক্ত করে ব্রাজিল।
এরপর ৩১তম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে স্কটল্যান্ড। কর্ণারের বিনিময়ে স্কটল্যান্ডের ক্রস আটকান দানিলো। ৩৩তম মিনিটে লুকাস পাকুয়েতার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নিয়েছিল স্কটল্যান্ড। ব্রাজিল ডিফেন্ডারে গায়ে লেগে সেটি চলে যায় গোললাইনের বাইরে।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে আবারও বল টেনে নিয়ে গিয়ে শট নিয়েছিলেন রায়ান। তবে সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। ৪১তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বাঁকানো শট চলে যায় গোলবারের একটু বাইরে দিয়ে।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে গোলের অনেক কাছে চলে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক। ডি-বক্সের বামদিক থেকে গোললাইনের কাছে থেকে কাট করে কুনিয়াকে বল দিয়েছিলেন ভিনি। দারুণ ফ্লিক শটে সেটি গোলমুখেও রেখেছিলেন কুনিয়া। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার হয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছিল স্কটল্যান্ড। ডি-বক্সের মধ্যে দারুণভাবে সেটি ব্লক করেন ক্যাসেমিরো।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন ভিনি। বেশ কয়েকবার ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেও সম্পূর্ণ বিপদ মুক্ত করতে পারেনি স্কটল্যান্ড। ডি-বক্সের ডানকোণা থেকে ক্রস বাড়ান ব্রুনো গিমারায়েস। হেডে বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি ভিনি।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে তৃতীয় গোলের সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রায়ান। গোলরক্ষকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। কিছুটা এগিয়ে এসে সেটি আটকে দেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক। পলে ২-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ব্রাজিলকে।

স্পোর্টস ডেস্ক