কানাডাকে হারিয়ে শীর্ষে থেকেই নকআউটে সুইজারল্যান্ড
কানাডা-সুইজারল্যান্ডের এই লড়াইটা ছিল গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের। সেখানে সুইজারল্যান্ডের জন্য সমীকরণটা কঠিনই ছিল। জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। শুরু থেকেই বল দখলে রাখলেও গোল পাওয়া হচ্ছিল না সুইসদের। দ্বিতীয়ার্ধে ডেডলক ভাঙতেই আধিপত্য বিস্তার করল তারা।। আরও একবার জালে বল জড়িয়ে জয় তুলে নিল সুইজারল্যান্ড।
আজ বুধবার (২৪ জুন) দিনগত রাত ১টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডার ভ্যাঙ্কুভাবে মুখোমুখি হয়েছে কানাডা আর সুইজারল্যান্ড। দারুণ লড়াই শেষে স্বাগতিক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় আর এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২-এ পা রাখল সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে, সমান একটি করে জয় পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে গেল কানাডা।
সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আট দলের একটি হওয়ার অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে দারুরণ আক্রমণ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে বক্সের সামনে ক্রস ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের এক ফুটবলার। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন ব্রিল এম্বোলো। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে এসে সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন জোহান মানজাম্বি। সেটিও ব্লক হয়ে যায় কানাডিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে।
এরপর ১৪তম মিনিটে একই ভুল করে কানাডাও। মাঝ মাঠের কাছে থেকে বল নিয়ে গিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেনি কানাডার । পরে অবশ্য ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) রেফারির সঙ্গে কথা বলে সেটিকে অফসাইড ঘোষণা করেন।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে মাঠের ডানপ্রান্তে সেটপিস পেয়েছিল কানাডা। সেখান থেকে বক্সের মধ্যে আসা ক্রস থেকে শটও নিয়েছিল কানাডা। তবে, সেটি গ্লাভসবন্দি করতে কষ্ট হয়নি সুইস গোলরক্ষকের।
পরের মিনিটে আক্রমণে সাজিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। ডামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে বিপদজনক জায়গা থেকে শট নিয়েছিল সুইস ফুটবলার। তবে সেটি আটকে দেন কানাডিয়ান গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডের বক্সের হানা দিয়েছিল কানাডা। ৯ বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে সুইস ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন। তবে তার দুর্বল শট আটকাতে বেগ পেতে হয়নি গোলরক্ষককে।
ম্যাচের ৪১তম মিনিটে কানাডার আরও একটি আক্রমণ বিফলে যায় সুইজারল্যান্ড গোলরক্ষকের নৈপূন্যে। বক্সের বামপ্রান্ত থেকে নেওয়া আলি আহমেদের শট আটকে দেন গোলরক্ষক। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে প্রথম মিনিটেই গোল আদায় করে নেয় সুইজারল্যান্ড। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে সুইসরা। লেফট উইং থেকে ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান জোহান মানজাম্বি।। ফাঁকায় থাকা রুবেন ভার্গাস বল পেয়ে জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি। উল্লাসে মেতে ওঠে সুইসরা।
ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে এবার নিজেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন মানজাম্বি। নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো লং বল দৌঁড়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন ব্রিল এম্বোলো। এরপর কিছুটা অপেক্ষা করে পাস ডি-বক্সের ডানকোনায় পাস দেন মানজাম্বিকে। সেখান থেকে নেওয়া মানজাম্বির বুলেট গতির শট গোলরক্ষকের হাতের নিচ দিয়ে গিয়ে জালে জড়ায়।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া কানাডা ৬৬তম মিনিটে থ্রো-ইন, কর্ণার মিলিয়ে টানা কয়েকটি আক্রমণ করে। তবে তবে কোনোভাবেই সসুইজারল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙেতে পারেনি। ব্লক হয়েছে কয়েকটি শট।
বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বলে প্রথম ছোঁয়াতেই গোল করেন প্রোমিস ডেভিড। নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো লং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান নাথান সালিবা। দারুণভাবে সেই বলে পা ছুঁইয়ে জালে জড়িয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার আভাসও দেন।
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে বিপদজনক জায়গায় সেটপিস পেয়েছিল কানাডা। সেখান থেকে বক্সের ক্র বাড়ান। সেটিতে দারুণভাবে মাথা ছুঁইয়েছিলেন প্রোমিস। তবে এবার সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্ণার থেকে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল কানাডা। স্বাগতিকদের হেড আটকে দেন সুইস গোলরক্ষক। শেষ মিনিটে আরও কানাডার আরও একটি হেড আটকে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক।
এরপর রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার থেকে গ্যালারি।

স্পোর্টস ডেস্ক