আক্রমণের ঝড় থামিয়ে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা
ম্যাচ জুড়েই বল দখলে রেখে আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসল ইংল্যান্ড। ঘানার রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিল থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু ঘানার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারল না তারা। অবশ্য ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় হারিয়েছে কিছু সুযোগও। তবে, কঠিন ডিফেন্স করা ঘানাকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। নিজেদের পরিকল্পনায় সফল তারা। ইংল্যান্ডকে আটকে দিয়ে তুলে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট।
আজ বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে বোস্টনে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড আর ঘানা। ইংল্যান্ডের আধিপত্য দেখানো ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়।
এ নিয়ে টানা তৃতীয় বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করল ইংল্যান্ড। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি তাদের ১৩তম গোলশূন্য ড্র। বিশ্বের আর কোনো দলের ৯টির (ব্রাজিল) বেশি গোলশূন্য ড্র করার নজির নেই।
এই ম্যাচ শেষে দুই ম্যাচ খেলে সমান একটি করে জয় আর ড্র করেছে ইংল্যান্ড ও ঘানা। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। আর দুইয়ে ঘানা। তবে ড্র করায় কোনো দলেরই এখনো চূড়ান্ত নয় নকআউটে খেলা। গ্রুপের বাকি দুই দল— পানামা আর ক্রোয়েশিয়া এক ম্যাচ করে খেলে পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
দিনের আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে পানামা আর ক্রোয়েশিয়া এই ম্যাচে যারা জিতবে তারা নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখবে। তবে, এই ম্যাচটিও ড্র হলে নিশ্চিত হয়ে যাবে ইংল্যান্ড আর ঘানার নকআউটে খেলা।
ম্যাচে ইংল্যান্ড কতটা আধিপত্য বিস্তার করেছে সেটি দেখা যায় পরিসংখ্যান থেকে, পুরো ম্যাচে ৭৯ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট নেয় ইংল্যান্ড। অবশ্য লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মোটে ৩টি। বিপরীতে, ২১ শতাংশ বল দখলে রেখে মোটে ২টি শট নিতে পারে ঘানা। এর মধ্যে একটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের প্রথম অংশে বলের দখলে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করা হলে ইংল্যান্ড একটি বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায়। ডেক্লান রাইস সরাসরি শট নিলেও সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধে এর বাইরে আর তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ডি-বক্সের ভেতরে ডেক্লান রাইসের দিকে বল এগিয়ে দেন ননি মাদুয়েকে। লাফিয়ে উঠে হেড করলেও জালের ভেতরে রাখতে পারেননি রাইস।
বিরতিতে থেকে ফিরে আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই করতে পারছিল না তারা। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় বেঁচে যায় ঘানা।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের। ডান পাশ থেকে কাট-ইন করে দূরের পোস্টে শট করেন বুকায়ো সাকা। তবে দারুণ ক্ষিপ্রতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে।
সেখান থেকেই ফিরতি বল পেয়ে আবার আক্রমণ সাজায় ইংল্যান্ড। এবার সবার চেয়ে ওপরে লাফিয়ে উঠে হেড দেন নিকো ও'রাইলি। কিন্তু ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে বল। সেই ফিরতি বল একদম গোলমুখেই পান হ্যারি কেইন। তবে তার ডান পায়ের ভলি গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
পরে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এবেরেচি এজে বল বাড়িয়ে দেন মার্ক গিয়েহির দিকে। দারুণ হেডে জাল বরাবর পাঠিয়ে দেন গিয়েহি। কিন্তু একদম গোল লাইন থেকে সেটি ক্লিয়ার করেন ঘানার এক ডিফেন্ডার। তাতেই যেন ড্র নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ফল।

স্পোর্টস ডেস্ক