২৪ বছর পর ফেরা তুরস্কের সামনে লড়াকু অস্ট্রেলিয়া
বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে। ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। একই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই শুরুতেই দিক নির্ধারণী এক লড়াই। প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া তাই গ্রুপ পর্বের সমীকরণে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস মাঠে নামবে তুরস্কা আর অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস আর সময় টিভি। অনলাইনে দেখা যাবে টফি, বায়োস্কোপ প্লাস, আই-স্ক্রিণ, মাই রবি আর মাই এয়ারটেল অ্যাপে।
অস্ট্রেলিয়া চার বছর আগে রাউন্ড অব ১৬-তে পৌঁছানোর সাফল্যকে পুঁজি করে এবারও আত্মবিশ্বাসী। টনি পপোভিচের দল সাধারণত শারীরিক শক্তি, সংগঠিত ডিফেন্স এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর নির্ভর করে খেলে। বড় ম্যাচে ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখে সুযোগ কাজে লাগানোই তাদের মূল শক্তি।
অন্যদিকে, ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ক এসেছে দারুণ ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ভিনচেঞ্জো মন্টেলার অধীনে দলটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাদের মিডফিল্ডের সৃজনশীলতা, দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা যে কোনো রক্ষণকে বিপদে ফেলতে সক্ষম।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় দিক হলো কৌশলের লড়াই। অস্ট্রেলিয়া চাইবে রক্ষণভাগকে মজবুত রেখে ম্যাচকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিতে, আর তুরস্ক চাইবে বল দখল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে। এই দুই বিপরীতধর্মী কৌশলের সংঘর্ষই ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় দুশ্চিন্তা মোহাম্মদ টুরের ফিটনেস। তার অনুপস্থিতি আক্রমণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অধিনায়ক ম্যাথিউ রায়ানের অভিজ্ঞতা, জ্যাকসন আরভাইনের মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাথিউ লেকির গতি ও অভিজ্ঞতা দলকে ভারসাম্য দেবে। হ্যারি সাউটার সেট-পিসে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।
তুরস্ক শিবিরে কেনান ইয়িলদিজের চোট বড় ধাক্কা হলেও আর্দা গুলের ফিট হয়ে ফেরা দলকে নতুন গতি দিয়েছে। হাকান চ্যালহানওগ্লু, ওরকুন কোকচু এবং বারিস আলপার ইলমাজ আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা ও ধার যোগ করবেন। তুরস্কের সাম্প্রতিক টানা ভালো ফর্ম তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ফর্মের দিক থেকে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের এই মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার লড়াকু মানসিকতা যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই এক তীব্র, কৌশলনির্ভর এবং টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচের প্রত্যাশা করা যায়, যেখানে এক মুহূর্তের ভুলই ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
অস্ট্রেলিয়া : রায়ান, ইতালিয়ানো, সিরকাটি, সাউটার, হ্যারিংটন, বোস, মেটকাফ, আরভাইন, ও’নিল, লেকি, টুরে।
তুরস্ক : চাকির, চেলিক, ডেমিরাল, বারদাকচি, এলমালি, চ্যালহানওগ্লু, ইউকসেক, গুলের, কোকচু, ইলমাজ, আর্দা গুল।

স্পোর্টস ডেস্ক