সিরিজ জিততে পারল না বাংলাদেশ
বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু, সেটি ধরে রাখতে পারেনি। ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে নিউজিল্যান্ড। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ ছিটকে যায় ম্যাচ থেকে। তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শনিবার (২ মে) টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। জবাবে ১১.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১০৪ রান করে নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান কেইটেন ক্লার্ককে। ২ বলে ১ করেন ক্লার্ক। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। আরেক ওপেনার টিম রবিনসনকেও বিদায় করেন শরিফুল। ১৪ বলে ২৩ রান করে বিপজ্জনক হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া রবিনসনকে বোল্ড করেন শরিফুল।
ডেন ক্লিভারকেও সাজঘরের পথ দেখান শরিফুল। বাঁহাতি এই পেসারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফল আসে স্বাগতিকদের পক্ষে।
শরিফুল ঝড়ের পর শেখ মেহেদীর আঘাত। কিউই দলপতি নিক কেলিকে বোল্ড করেন মেহেদী। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের জুটিতে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। জ্যাকবস ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন ফক্সক্রফট।
বাংলাদেশের পক্ষে ১৯ রানে ২ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। মেহেদী নেন একটি।
ব্যাটিংয়ে শুরু করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা ধীর গতির হলেও সাইফ হাসান শুরু করেছিল আগ্রাসী মেজাজে। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না তিনি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ফিরলেন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে। জেডেন লিনক্সের বলে ক্যাচ দেন টিম রবিনসনের হাতে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৬ রান।
পরের ওভারে ফেরত যান আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। নাথান স্মিথের বলে ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি তিনি। বল গিয়ে উড়িয়ে দেয় স্টাম্পের বেল। ১০ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। আগের ম্যাচে দারুণ খেলা পারভেজ হোসেন ইমন এদিন ফিরেছেন প্রথম বলেই। স্মিথের বলে তিনি ক্যাচ দেন ইশ সোধিকে।
বৃষ্টি শেষে খেলা শুরু হলে দ্রুতই ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। ১৭ বলে ২৬ করে জস ক্লার্কসনের ডেলিভারিতে বেভন জ্যাকবসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন দলপতি। এরপর শুরু হয় আসা-যাওয়ার পুরোনো মিছিলে। যে মিছিল থেকে আর বের হতে পারেনি স্বাগতিকরা।
শেষের ৬ ব্যাটারের কেউই পারেননি দুই অঙ্কের রান করতে। সুযোগ পাওয়া সাইফউদ্দিন ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। শেষ ৬ ব্যাটার মিলে যোগ করেন মোটে ১৭ রান।
একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। ২৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংস থামে ক্লার্কসনের শিকার হয়ে। এটিই ইনিংসে বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ক্লার্কসন ৯ রানে ৩ উইকেট নন। দটি করে উইকেট পান নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ১৪.২ ওভারে ১০২/১০ (সাইফ ১৬, তামিম ৬, লিটন ২৬, ইমন ০, হৃদয় ৩, শামীম ৩, মেহেদী ৭* সাইফউদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরিফুল ২, রিপন ০; ফক্সক্রফট ২-০-১৩-০, স্মিথ ২-০-১৪-২, সিয়ার্স ২.২-০-১২-২, লেনক্স ৩-০-২৮-১, সোধি ৩-০-২২-১, ক্লার্কসন ২-০-৯-৩)
নিউজিল্যান্ড : ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (রবিনসন ২৩, ক্লার্ক ১, ক্লিভার ১, কেলি ১, জ্যাকবস ৬২*, ফক্সক্রফট ১৫*; মেহেদী ৩-০-২০-১, শরিফুল ৩-০-১৯-৩, রিপন ২-০-২৭-০, রিশাদ ২.৪-০-৩১-০, সাইপউদ্দিন ১-০-৭-০)
ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : ১-১ সমতা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক