শেষ ওভারের থ্রিলারে গুজরাটকে হারাল রাজস্থান
বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে গুজরাট টাইটান্সকে দারুণ শুরু এনে দিলেন দুই ওপেনার। এরপর ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখল গুজরাট। রাজস্থান রয়্যালসের স্পিনার রবি বিষ্ণোই এর বলে যেন চোখে সরষে ফুল দেখল গুজরাটের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। শেষদিকে ঝড় তুলে আশা জাগিয়েছিলেন রশিদ খান আর কাগিসো রাবাদা। তবে আকাশ দেশপান্ডের দারুণ বোলিংয়ে সেটি পূর্ণতা পায়নি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান তুলেছে রাজস্থান রয়্যালস। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান তুলতে পারে গুজরাট। রাজস্থান জয় পেয়েছে ৬ রানে।
রান তাড়ায় নেমে ভাল শুরু পায় গুজরাট টাইটান্সও। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৮ রান করেন কুমার কুশাগ্র আর সাই সুদর্শন্য। কুশাগ্র কিছুটা দেখেশুনে খেলছিলেন। তবুও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৪ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন তিনি।
এরপর জস বাটলারকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সুদর্শন। হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির পথে হাটছিলেন এই ওপেনার। তবে থামতে হয়েছে আগেই। ৪৪ বলে ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি।
এরপর দ্রুতই আরও তিন উইকেট হারায় গুজরাট। ৪ বলে ৩ রান করে গ্লেন ফিলিপস, ২ বলে ৪ রান করে ফেরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকা জস বাটলার আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে ইনিংস বড় করার আগেই ফেরেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ২৬ রান।
পরে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের শেষ জুটি হিসেবে ছিলেন রাহুল তিওয়াতিয়া আর মোহাম্মদ শাহরুখ খান। ৮ বলে ২২ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন তারা। ১৫তম ওভারে বোলিংয়ে এসে সেই জুটিতে আঘাত হানেন রবি বিষ্ণোই। ফেরান ৬ বলে ১২ রান করা রাহুলকে। দুই বল পরই রানআউটে বিদায় নেন শাহরুখ (৪ বলে ১১)।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য ভিন্ন গল্প চেষ্টা করেছিলেন রশিদ আর রাবাদা। অষ্টম উইকেটে ৩০ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েছিলেন এই দুজন। তবে শেষ ওভারে ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি তারা। নিতে পেরেছেন মোটে ৪ রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল আর বৈভব সূর্যবংশী। উদ্ভোধনী জুটিতে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারেই তুলেন ৬৯ রান।
পাওয়ার-প্লের পরের ওভারে সূর্যবংশী ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ১৮ বলে ৩১ রান করেন তিনি। সূর্যবংশী ফিরলেও উইকেটে আরও ৬ ওভার কাটিয়ে দেন জয়সওয়াল। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফেরেন তিনি। রাবাদার বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৩৬ বলে ৫৫ রান।
তিন নম্বরে নেমে রীতিমতো ঝড় তোলেন ধ্রুব জুরেল। গুজরাট টাইটান্সের বোলারদের তুলোধুনো করে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরির দিকেই ছুটছিলেন জুরেল। তবে ফিরতে হয়েছে আগেই। ৪২ বলে ৭৫ রান করে মোহাম্মদ সিরাজের বলে উইকেটের পেছনে বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন জুরেল।
পাঁচ নম্বরে নেমে ঝড় তোলার আভাস দিয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ারও। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ২ ছক্কা আর এক চারে ৮ বলে ১৮ রান করেন তিনি।
গুজরাটের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন কাগিসো রাবাদা। একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সিরাজ, অশোক শর্মা, প্রাসিধ কৃষ্ণা ও রশিদ খান।

স্পোর্টস ডেস্ক