সিটিকে স্তব্ধ করে রিয়াল মাদ্রিদের জয়োল্লাস
ইতিহাদের পরিসংখ্যান কথা বলছিল ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষেই। কিন্তু মাঠের খেলায় সেটা প্রমাণ করতে পারল না পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা। ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়কের লাল কার্ড আর ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোল সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিল। দুই লেগেই জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছেড়েছে প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।
টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে দুটি গোলই করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস। সিটির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আর্লিং হলান্ড। এই হারের মাধ্যমে গত পাঁচ মৌসুমের মধ্যে চারবারই রিয়ালের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো পেপ গুয়ার্দিওলার দলকে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। বক্সের ভেতর রিয়ালের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ম্যানসিটি অধিনায়ক বার্নান্দো সিলভার হাতে বল লাগে। ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান এবং সিলভাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন।
পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি ভিনিসিয়াস। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সিটির জন্য ম্যাচটি তখনই কঠিন হয়ে পড়ে। মেজাজ হারিয়ে সাইডলাইনে চতুর্থ রেফারির গায়ে হাত দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন সিটি কোচ গার্দিওয়ালা।
এক গোল হজম করার পর গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে সিটি। ৪১তম মিনিটে জটলার ভেতর থেকে বল পেয়ে জালে জড়ান আর্লিং হলান্ড। গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই ছিল নরওয়ে এই তারকার প্রথম গোল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। বিরতির পর রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া চোটের কারণে মাঠ ছাড়লে বদলি নামেন আন্দ্রি লুনিন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে লড়েছে সিটি। জেরেমি ডোকু এবং রায়ান আইত-নুরি জালের দেখা পেলেও দুবারই অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে সিটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ভিনিসিয়াস।

স্পোর্টস ডেস্ক