অ্যাতলেটিকোকে কাঁদিয়ে ২০ বছর পর ফাইনালে আর্সেনাল
বল পায়ে দুই দলের লড়াইটা চলল বেশ। তবে যতটা না গোলের ক্ষুধা দেখা গেলো, তার চেয়ে বেশি দেখা গেল রক্ষণে মনযোগী। ফলে খুব বেশি সুযোগ তৈরি হলো না। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের একটি ভুলকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত সেটিই ২০ বছর পর টিকিট নিশ্চিত করল ফাইনালের।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। প্রথম লেগে ১-১ গোলের ড্র থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলের জয় পায় আর্সেনাল।
২০০৬ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছিল আর্সেনাল। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে নামবে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দাপট ছিল আর্সেনালের, আর বিরতির পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করে অ্যাতলেটিকো। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি আসে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে।
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে ভিক্তর ইয়োকেরেশের ক্রস থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রসাড শট নিলে তা ঠেকিয়ে দেন অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক ওবলাক। তবে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। কাছেই ওঁত পেতে থাকা বুকায়ো সাকা দ্রুত টোকায় বল জালে জড়ান। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল দিয়েগো সিমেওনের দল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে জুলিয়ানো সিমেওনে আর্সেনাল গোলরক্ষককে কাটিয়েও ফাঁকা জালে বল পাঠাতে দেরি করে ফেলেন। সেই সুযোগে গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস দারুণ এক স্লাইডে আর্সেনালকে নিশ্চিত বিপদমুক্ত করেন।
শেষ দিকে বদলি নামা আলেকসান্দার সরলথও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় অ্যাতলেটিকোর। গ্যালারিতে তখন অনেক স্প্যানিশ সমর্থককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আরও একটি ফাইনাল খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল দলটির।
আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মেগা ফাইনাল। সেখানে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজি। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আর্সেনালের, এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরাই হবে গানারদের মূল লক্ষ্য।

স্পোর্টস ডেস্ক