আইসিসি থেকে দুই প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বাংলাদেশকে
ভারতের উগ্রপন্থি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী মাসে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এ নিয়ে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) জরুরি বোর্ড সভা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। ওই দিনই আইসিসিকে ই-মেইল করে বোর্ড। এরপর আইসিসির কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর পায়নি বাংলাদেশ। তবে আজ আইসিসির কাছ থেকে উত্তর আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ আইসিসির কাছে পাঠানো ই-মেইলে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছে, প্রথমত- নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত- বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া।
এই ই-মেইলের বিপরীতে দুটি প্রস্তাব আসতে পারে আয়োজক দেশ ভারত থেকে। যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানাবে আইসিসি। প্রস্তাব দুটি হলো— রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা থেকে ভারতের অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া অথবা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া। তবে ভারত চাইবে প্রথম প্রস্তাবটিতে বেশি জোর দেওয়া।
বাংলাদেশও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী আসতে পারে, তা নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে খেলতে বাংলাদেশ নিরাপদ বোধ করছে না। আইসিসির উত্তরের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।’
অন্যদিকে, বিসিবি চাইলেও এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত পারবে না ভারত সফরের বিষয়ে। কারণ বিষয়টি এখন সরকার পর্যন্ত গড়িয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভারত সফরের জন্য এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। সেই অনুমোদন পেলেই কেবল বিসিবি ভারত সফরে দল পাঠাতে পারবে।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে, সরকার থেকে কোনোভাবেই এখন ভারত সফরের অনুমতি দেওয়া হবে না। আর সেটি না হলে আইসিসিও বাংলাদেশকে জোর করতে পারবে না ভারত সফর করার জন্য। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রস্তাবটিই মেনে নিতে হবে আইসিসিকে। বাংলাদেশের খেলাগুলো সরিয়ে নিতে হবে শ্রীলঙ্কায়।

স্পোর্টস ডেস্ক