মাহমুদউল্লাহ-খুশদিল ঝড়ে রংপুরের সহজ জয়
আগের ম্যাচে এক বলে এক রানের সমীকরণ মেলাতে না পারা মাহমুদউল্লাহ এদিন ব্যাটহাতে রীতিমতো ঝড় তুললেন। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে কঠিন হয়ে আসা হয়ে ম্যাচ নিয়ে এলেন হাতের মুঠোয়। তার দল রংপুর রাইডার্সও জিতল হেসে খেলে।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানের পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল সিলেট টাইটান্স। জবাব দিতে নেমে ৭ বল আর ৬ উিইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।
রান তাড়ায় নেমে দেখেশুনে শুরু করেছিল রংপুরের দুই ওপেনার ডেভিড মালান আর লিটন দাস। তবুও ইনিংস বড় করতে পারেননি মালান। ২১ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ১১ বলে ৬ রান করে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়।
একপ্রান্ত আগলে রাখা লিটন এবার চার নম্বরে নামা কেইল মায়ার্সকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ২৫ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন লিটন। দলীয় রান ১০০ পার করার আগেই ফেরেন মায়ার্সও। ২৯ বলে ৩১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
মায়ার্স ফেরার পর জয়ের সমীকরণ কঠিন হয়ে এসেছিল রংপুরের জন্য। সেই সময়ই অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিলেন মাহমুদউল্লাহ। সিলেটে রীতিমতো চার-ছক্কার বৃষ্টি নামালেন তিনি। আরেকপ্রান্তে থাকা খুশদিল শাহও যোগ দিলেন তার সঙ্গে। এতে সব সমীকরণ মিলিয়ে জয়ে ফিরল রংপুর।
২০০ এর ওপরে স্ট্রাইকরেটে ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার আর এক ছক্কায়। অন্যদিকে, খুশদিল অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ১৯ রানে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে। ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি সিলেটের ব্যাটাররা। টপ-অর্ডারের চার ব্যাটারের মধ্যে তিনজই ফিরেছেন দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করার পর। সাইম আইয়ুব ৭ বলে ১১, রনি তালুকদার ১৪ বলে ১৯ আর পারভেজ হোসেন ইমন ফেরেন ১৯ বলে ১৫ রানে। মাঝে মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরেন ৪ রানে।
শুরুর সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন আর ইথান ব্রুকস। দুজনে মিলেন গড়েন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৬ রানের জুটি। আফিফ হোসেন ৩১ বলে ৪৬ রানে ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই ফিরে যান আগের ম্যাচে ঝড় তোলা আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪ বলে ৬)। ইথানও আর বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি, ফেরেন ৩০ বলে ৩২ রান করে। এতে স্কোরবোর্ডে ১৪৪ রান যোগ করতে পারে সিলেট।
রংপুরের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান আর ফাহিম আশরাফ। একটি করে উইকেট যায় আলিস আল ইসলাম আর মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ঝুলিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১৪৪/৮ (সাইম ১১, রনি ১৯, মিরাজ ৪, ইমন ১৫, আফিফ ৪৬, ইথান ৩২, ওমরজাই ৬, খালেদ ০, নাসুম ৬*, আমির ২*; মায়ার্স ৩-০-২৬-০, আলিস ৪-০-৩৩-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-৩, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-৩-১, খুশদিল ২-০-১৩-০)
রংপুর রাইডার্স : ১৮.৫ ওভারে ১৪৫/৪ (মালান ১৯, লিটন ৩৫, হৃদয় ৬, মায়ার্স ৩১, মাহমুদউল্লাহ ২৪*, খুশদিল ১৯*; আমির ৩.৫-০-২১-০, ওমরজাই ১-০-১২-০, সাইম ৪-০-১৬-১, খালেদ ৩-০-১৯-১, নাসুম ২-০-১৮-১, মিরাজ ৩-০-৩৫-০, ইবাদত ১-০-১১-০, ইথান ১-০-১৩-১)
ফলাফল : রংপুর রাইডার্স ৬ উইকেটে জয়ী।

স্পোর্টস ডেস্ক