সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর বাড়ল ৩৬ শতাংশ
মন্দের মধ্যেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে। গত ছয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর এই ছয় মাসে মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূলধন বেড়েছে এক হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। অপরদিকে গত এক মাসে ডিএসইতে এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর এই এক মাসে মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪২৫ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিটি ব্যাংকের প্রতি শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়ায় ৩৩ টাকা। ছয় মাস আগে গত ২ নভেম্বর শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এই ছয় মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে আট টাকা ৭০ পয়সা। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২০ কোটি তিন লাখ ২৮ হাজার ২৭৭ টাকা। গত ২ নভেম্বর বাজারে মূলধন ছিল তিন হাজার ৬৯৬ কোটি ৫৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ টাকা। এই ছয় মাসে মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন বেড়েছে এক হাজার ৩২৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
অপরদিক এক মাস আগে গত ২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ছিল ৩০ টাকা ২০ পয়সা। এই এক মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে দুই টাকা ৮০ পয়সা। গত ২ এপ্রিল বাজারে মূলধন ছিল চার হাজার ৫৯৪ কোটি ৯ লাখ ছয় হাজার ৪৮৪ টাকা। এই এক মাসে মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন বেড়েছে ৪২৫ কোটি ৯৪ লাখ ২১ হাজার ৭৯৩ টাকা।
শেয়ার দর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার নাজির হোসেন ও সুরাইয়া বলেন, যেখানে দেশের ব্যাংকগুলো এখন খুবই খারাপ অবস্থা। অনেক ব্যাংক তাদের অনিয়মে ইতোমধ্যে ডুবে পড়েছে। হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠান পরিচালন করতে, সেখানে সিটি ব্যাংক মাথা উঁচু হয়ে মুনাফা করে এগিয়ে এসেছে। যা এসময়ের ভাল খবর। তারপর প্রত্যাশা করি, কেউ যেন ব্যাংকটির শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে লিপ্ত না হয়। দুষ্ট চক্র যেন নিরীহ বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করতে না পারে বলে জানান এই দুই বিনিয়োগকারী।
ব্যাংকটির বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে জানিয়ে সিটি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর কেন বাড়ছে, সেই বিষয়ে তেমন কোন তথ্য আমাদের জানা নেই। শেয়ার দর বাড়ার মতো কোম্পানিটিতে এখন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও নেই।
গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কোম্পানিটির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দাঁড়ায় তিন দশমিক ৭৯ পয়েন্টে, পিই রেশিও অনুসারে কোম্পানিতে বিনিয়োগ খুবই নিরাপদে রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা পূর্বের চেয়ে অনেক ভাল করেছে। যার ফলে এবারে ২০২৫ সালে জন্য ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা দিয়েছে। হয়তো এসব কারণে সিটি ব্যাংক প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। সেই কারণেই হয়তো শেয়ার দর বাড়ছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের (২০২৬ সাল) প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে এক টাকা ৫৮ পয়সা। আগের বছরের (২০২৫ সাল) একই সময়ে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৬১ পয়সা। আলোচিত প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে সাত টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ৯ টাকা ৪২ পয়সা। গত ৩১ মার্চ সমন্বিত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৩১ পয়সা।
২০২৫ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি। ওই বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে আট টাকা ৭১ পয়সা। ওই সমাপ্ত বছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল ৪৭ টাকা। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জুন, বিকেল ৩টায়। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ মে। যদিও ২০২৪ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছিল ব্যাংকটি।
১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সিটি ব্যাংক। এ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯টি। রিজার্ভ দুই হাজার ৯৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে চার দশমিক ৮৭ পয়েন্ট ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান