অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত এক মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার দর কারণ ছাড়াই বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। শেয়ার দরের এত বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে।
মতিঝিলের তিনটি সিকিউরিটিজ হাউজের পাঁচজন কর্মকতা বলেন, সাধারণত কয়েক কারণে শেয়ার দর বাড়ে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো—কোম্পানির ভালো লভ্যাংশ ও অতি মুনাফা, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নতুন প্রকল্প বা পলিসি ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে বলা যায়, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের এজিএম হয় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)। এতে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে লভ্যাংশ পেতে রেকর্ড ডেট ছিল গত ৩১ মার্চ। লভ্যাংশ যারা (বিনিয়োগকারী) পাবেন, তাদের হাতে গত ৩১ মার্চ অবশ্যই কোম্পানিটির শেয়ার থাকতে হবে। ওইদিন যারা শেয়ার ধারণ করবে, কেবল তারাই লভ্যাংশ পাবে। সেই হিসেবে লভ্যাংশকে কেন্দ্র করে এই বৃদ্ধি হয়নি। অবশ্য কোম্পানির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে। সেটাকে পুঁজি করে এত বৃদ্ধি, একেবারেই দৃষ্টিকটু। তারা বলেন, কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন পলিসি আনবে, এমন কোন তথ্য নেই। সবমিলিয়ে এক মাসে এত বৃদ্ধি ভাল ভাবে দেখছেন না এসব কর্মকতা।
শেয়ার দর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের বিনিয়োগকারী জোবায়ের বলেন, গত ৩১ মার্চ রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের রেকর্ড ডেট ছিল। লভ্যাংশ পেতে রেকর্ড ডেটের আগেই কোম্পানিটির দর উত্থান হয়েছিল। বেড়ে গত ৩১ মার্চ শেয়ারপ্রতি দর দাঁড়িয়েছিল ৬৯ টাকায়। পরে এই শেয়ারের দর কমে আসে। গত ৫ এপ্রিলে কমে শেয়ারপ্রতি দর দাঁড়ায় ৬৫ টাকায়। পরে ফের শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। এখন শেয়ারপ্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা। কারণবিহীন এতো বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তাই কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে পুঁজিবাজার রেগুলেটরদের অনুরোধ করেন তিনি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৯০ পয়সা। আগের সপ্তাহে ২৩ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৭২ টাকা ৯০ পয়সা। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ২০ টাকা বা ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগের ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৬৭ টাকা ২০ পয়সা। এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৫ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮২ টাকা। যা গত ২৩ এপ্রিল মোট শেয়ারের বাজার মূলধন ছিল ৭৬৬ কোটি ৬২ লাখ ৪৩ হাজার ২৪২ টাকা। এক সপ্তাহে বাজারে মূলধন বেড়েছে ২১০ কোটি ৩২ লাখ ২১ হাজার ৭৪০ টাকা। এর আগে গত ৪ এপ্রিল মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন ছিল ৭০৬ কোটি ৬৮ লাখ ২৫ হাজার ৪৭ টাকা। এক মাসে বাজারে মূলধন বেড়েছে ২৭০ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৬ টাকা।
শেয়ার দর বাড়ছে জানিয়ে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ার দর কেন বাড়ছে, সেই বিষয়ে তেমন কোন তথ্য জানা নেই। শেয়ার দর বাড়ার মতো কোম্পানিটিতে এখন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও নেই। তবে ২০২৫ সমাপ্ত হিসেব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে দুই টাকা ৮৮ পয়সা। যা আগের চেয়ে বেড়েছে। গত ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮২ টাকা ৬৩ পয়সা।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় আট টাকা ৪২ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছয় টাকা ৮৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে পুনর্মূল্যায়নসহ ৭৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০ এপ্রিল, বেলা ১১টায়। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ ছিল গত ৩১ মার্চ। গত ২০২৪ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিমা প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। এ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭টি। রিজার্ভ ৭২৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৬৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে চার দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান