৩৩ বছর আগের বিয়ের ছবিতে ফারুক আহমেদ
শৈশব, কৈশোর কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো মুহূর্তের পুরোনো অ্যালবাম ঘাঁটাঘাঁটি করতে মানুষ প্রায়শই অতীতে ফিরে যায়। ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ঠেলে হঠাৎ করেই যেন এক টুকরো মিষ্টি অতীত ভেসে উঠলো ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদের দেওয়ালে। এটি কোনো নাটকের শুটিংয়ের চেনা দৃশ্য কিংবা সিনেমার সেট নয়, বরং বাস্তব জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তের এক দুর্লভ স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে ১৯৯৩ সালের নিজের শুভ পরিণয়ের একটি বিশেষ ছবি পোস্ট করে তীব্র নস্টালজিয়ায় ভুগেছেন এই তারকা। ছবির ক্যাপশনে তিনি মনের আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘নয়া দামান। আইলোরে নয়া দামান। এটা আমার কোনো নাটকের ছবি না। পুরোনো ছবি ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে এই ছবিটি পেলাম। ১৯৯৩ সালের আমার বিয়ের ছবি। আজ থেকে ৩৩ বছর আগের ছবি। ঝাপসা তারপরও মাশাল্লা কত সুন্দর। দশে দশ।’
অভিনেতা ফারুক আহমেদের এই আবেগঘন পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পর থেকেই তার ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগের অ্যানালগ ক্যামেরায় তোলা প্রিন্ট করা ছবি হওয়ার কারণে এর চারপাশে সময়ের কিছু দাগ ও মলিনতার ছাপ স্পষ্ট, যা ছবিটির ঐতিহাসিক মূল্য ও নস্টালজিয়াকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছবিতে ফারুক আহমেদকে সম্পূর্ণ প্রথাগত নব্বই দশকের বরের সাজে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তিনি অফ-হোয়াইট বা হালকা ক্রিম রঙের একটি জমকালো শেরওয়ানি, একই রঙের পাজামা এবং মাথায় ঐতিহ্যবাহী বরের পাগড়ি পরে আছেন। গলায় ঝুলছে তাজা গোলাপ ও রজনীগন্ধার সমন্বয়ে তৈরি একটি বড় মালা, যা তার বরের সাজে এক রাজকীয় আবহ ফুটিয়ে তুলেছে। মুখে সেই জনপ্রিয় স্টাইলের নিখুঁত ছাঁটের গোঁফ এবং বাঁম হাতে একটি মেটালিক চেইনের ঘড়ি পরে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসা অভিনেতার এই চাহনি যেন এক অভিজাত ও সরল অতীতের প্রতিচ্ছবি। সময়ের চাকা ঘুরে গেলেও তার ভক্তরা মন্তব্যের ঘরে অভিনেতা ফারুক আহমেদের এই চিরসবুজ রূপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং তাকে ‘নয়া দামান’ হিসেবে দশে দশ নম্বরই দিচ্ছেন।

বিনোদন ডেস্ক