মডেলের রহস্যজনক মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালেন প্রেমিক
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিহোর জেলায় এক তরুণী মডেলের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরে সিহোরের ভৈনসাখেদি এলাকার একটি হাসপাতালে ২১ বছর বয়সী মডেল খুশবু আহিরওয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, খুশবুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে তার প্রেমিক, এরপরই তিনি পালিয়ে যান।
চিকিৎসকদের ভাষায়, হাসপাতালে আনার সময়ই খুশবুর কোনো সাড়া ছিল না। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগের পর ভোপালের গান্ধী মেডিকেল কলেজে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে চলছে ময়নাতদন্ত।
হাসপাতালের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন খুশবুর মা লক্ষ্মী আহিরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ওর শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন, মুখ ফুলে গেছে। এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।’
খুশবুর বোন মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদবের কাছে দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার বোনের শরীরে আঘাতের দাগ স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, দয়া করে ব্যবস্থা নিন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’
এনডিটিভি জানায়, খুশবু তিন বছর ধরে ভোপালে থাকতেন এবং ২৭ বছর বয়সী কাসিম নামের এক যুবকের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। ওই কাসিমই খুশবুকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
পুলিশ জানায়, উজ্জয়িনী থেকে ভোপাল ফেরার পথে খুশবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাসিম তাকে হাসপাতালে আনে। তবে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করলে সে পালিয়ে যায়। বর্তমানে কাসিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা এনডিটিভিকে জানান, খুশবুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা মারধর ও যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁরা বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে হত্যার দিক থেকেও তদন্ত চলছে।’
ইনস্টাগ্রামে ‘ডায়মন্ডগার্ল৩০’ নামে পরিচিত খুশবু ছিলেন স্থানীয় এক উঠতি মডেল। গ্ল্যামারাস ফটোশুট, ব্র্যান্ড প্রমোশন ও কোলাবোরেশনের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান তিনি। বিএ প্রথম বর্ষে পড়া ছেড়ে দিয়ে ভোপালে পার্টটাইম কাজের পাশাপাশি গড়ে তুলছিলেন নিজের মডেলিং ক্যারিয়ার।

বিনোদন ডেস্ক