৭টার খবরে টেলিভিশনে সালমান মারা যাওয়ার খবর শোনেন ডন, ছিলেন বগুড়া
ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার রহস্যময় মৃত্যু। এ মামলার প্রধান আসামি সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। আর অন্যতম আসামি (৪ নম্বর) খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সাইফুজ্জামান এই দুই আসামীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
এদিকে সামাজিকমাধ্যমে আবার ভাইরাল হয়েছে চার বছর আগে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের জনপ্রিয় শো ‘সেন্স অব হিউমার’-এ ডনের দেওয়া সাক্ষাৎকারের একটি অংশ।
সেখানে জয় ডনকে সরাসরি প্রশ্ন করেন,‘সালমান ভাইয়ের আত্মহত্যার কারণ কে হতে পারে? উনার মা না উনার স্ত্রী? আপনি কী বলবেন? এককথায় বললে।’
এর জবাবে ডন এটিকে ‘ফ্যামিলিগত ব্যাপার’ বলে উল্লেখ করেন এবং সালমানের ‘মেন্টালি আপসেট’ থাকার প্রসঙ্গ তোলেন।
অন্যদিকে, সালমানের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে দেওয়া এক জবানবন্দিতে মামলার আরেক আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদ দাবি করেন—এটি হত্যাকাণ্ড ছিল। তাদের কয়েকজন মিলে সালমান শাহকে হত্যা করেন এবং এর সঙ্গে সামিরা ও ডনও জড়িত ছিল।
কিন্তু জয়ের সাক্ষাৎকারে ডন তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘সেদিন ছিল শুক্রবার। আমি বগুড়াতে ছিলাম। সেখানে গেলে আমি এলাকার ছোট ভাই, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই। আমার বাসার পাশেই হচ্ছে নদী। ওই দিন সকালে নদীতে নৌকার মধ্যে ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে নৌকায় খিচুড়ি পাকিয়ে খাচ্ছিলাম। ছোট্ট নদী তো, নদীর ওপারে একটা গ্রাম আছে। আমার এক বন্ধু বলল, দোস্ত! ওই গ্রামে আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড আছে, ও আসবে ঘাটে নৌকা ভিড়া। ঘাটে নৌকা ভিড়াতেই দেখি হাজার হাজার লোক। তারা বলতেছে, ডন ভাই আপনি এখানে! সালমান শাহ তো মারা গেছে। তখন আমি বললাম, কী বলো! তখন আমি মনে করেছি, সালমান মনে হয় গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। কারণ, সালমান খুব ভালো ড্রাইভ করতে জানত, অনেক এক্সপার্ট। ও এমনভাবে গাড়ি চালাত, আমি ওর গাড়িতে উঠার সময় সুরা পড়ে উঠতাম।’
ডন আরও বলেন, ‘এরপর নৌকা ঘাটে ভিড়িয়ে বাড়ি এসে সম্ভবত সন্ধ্যা ৭টার খবরে টেলিভিশনে দেখলাম সালমান মারা গেছে। কিন্তু কী কারণে মারা গেছে, ওইটা তো বুঝতে হবে। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, বাসায় মারা গেছে তার মানে হয়তো কোনো একটা সমস্যা হয়েছে।’
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। সেই হত্যা মামলায় সামিরা ও ডন ছাড়া আসামি হিসেবে আছেন আরও ৯ জন—আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ফরহাদ।

বিনোদন ডেস্ক