দর্শক হলে এসে ছবিটি দেখলে ভালো লাগবে : তৌকীর আহমেদ
তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চতুর্থ ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’ মুক্তি পাবে আগামীকাল শুক্রবার। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, নিপুণ, শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু প্রমুখ। ছবিটি নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ করেছেন তৌকীর আহমেদ।
প্রশ্ন : ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি করতে আগ্রহী কেন হয়েছেন?
উত্তর : আমাদের দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক শ্রমিক যান। অনেক সময় ভুয়া কাগজ আর দালালচক্রের সাহায্যে তাঁরা বিদেশে পাড়ি জমান। তাঁদের এই বিদেশ যাওয়ার পেছনে রয়েছে অনেক কারণ। তবে মূল কারণটাই হলো দারিদ্র্য। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতেই তাঁরা বিদেশে যান। কিন্তু কষ্টের ব্যাপার হলো, বিদেশে সেসব শ্রমিকের বেতন অনেক অল্প। এ ছাড়া সেখানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই। অনেক সময় তাঁদের অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কিন্তু এরা তো মানুষ, ক্রীতদাস নয়। তাঁরা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য যান। কিন্তু আদৌ কি তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সোনার খনি খুঁজে পান? তাঁদের জীবনযাত্রার মানও থাকে অত্যন্ত নিম্ন। তাঁদের আসলে মানবাধিকার সুরক্ষা খুব প্রয়োজন। একদিন আমার বাসার গৃহকর্মী আমাকে একটা ঘটনার কথা বলেন। তিনি বলেছেন, তাঁদের গ্রামে একজন শ্রমিকের লাশ আসে বিদেশ থেকে। কিন্তু যে পরিবারের কাছে লাশটি পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল না। মানে ভুল লোকের লাশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনা আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলেছিল। এই সূত্র ধরেই আমি একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছি ‘অজ্ঞাতানামা’য়। এ ছাড়া ছবিতে ব্ল্যাক কমেডিও দেখানোর চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন : চলচ্চিত্রটি তৈরি করার আগে আপনি কি কোনো গবেষণা করেছিলেন?
উত্তর : গবেষণা তো অবশ্যই করতে হয়েছিল। খবরের কাগজে নিয়মিত জনশক্তি রপ্তানিবিষয়ক খবর পড়েছি। পরিসংখ্যানগুলোও দেখেছি। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে অনেক পড়াশোনাও করেছি। যা জানতে পেরেছি তা হলো, অনেক শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যান। আবার যাঁরা কাজ করতে গিয়ে মারা যান, তাঁদের মৃত্যুও অনেক সময় স্বাভাবিক হয় না। তাঁদের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াও হয়। কিন্তু একটা মানুষের মৃত্যুর মূল্য শুধুই কি ক্ষতিপূরণ?
প্রশ্ন : ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়ে কিছু বলুন।
উত্তর : বাংলা ছবি বিশ্বে এখনো এত পরিণত হয়নি। আমরা চেষ্টা করে চলেছি ভালো কিছু নির্মাণের। জানি না কতটুকু সম্ভব হয়েছে। কানে ভিন্ন ভাষার মানুষ যখন ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছিল, তখন অনুভূতি সত্যি ভিন্ন রকম ছিল।
প্রশ্ন : ইতালির গালফ অব নেপলস ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি জুরি মেনশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ছবি মুক্তির আগে পুরস্কার পেয়েছেন। কেমন লাগছে?
উত্তর : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা অনেক ফেস্টিভ্যালে ছবি দেখানোর জন্য আবেদন করি। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ে আমাদের ‘না’ শুনতে হয়। তাই বাইরের ফেস্টিভ্যালে জুরি মেনশন অ্যাওয়ার্ড আমাদের জন্য সুসংবাদ ছিল।
প্রশ্ন : ছবিটি থেকে আপনি দর্শকের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করছেন?
উত্তর : ছবিটিতে যে বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চাই তা হলো, সবার আগে মানুষ সত্য। ধর্ম কী, বর্ণ কী—তার চেয়েও বড় মানুষ। ছবিটিতে শৈল্পিক উপস্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয় তো রয়েছেই। দর্শক হলে এসে ছবিটি দেখলে ভালো লাগবে। কোনো একটি ছবি হয়তো সব ধরনের দর্শককে খুশি করতে পারে না। তারপরও আগে দেখুন, কেমন হলো ছবিটি।

নাইস নূর