রাশিয়ার একটি বিউটি পার্লারে দুই বছর কাজ শিখেছিলাম : নিপুণ
দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নিপুণ এখন অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের সৌন্দর্যচর্চার প্রতিষ্ঠান ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’ নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজধানীর বনানীতে নিপুণের এই প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি এনটিভির জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান ‘হা-শো’ তে আবারও বিচারক হয়েছেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি। এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপে নিজের ব্যবসা ও কাজ নিয়ে কথা বলেছেন নিপুণ।
প্রশ্ন : ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’ কেমন চলছে?
উত্তর : কেবল তো সাত মাস হলো কিন্তু অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখন তো ব্যবসার কাজেই বেশি সময় দিচ্ছি আমি। আমার এখানে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা সবাই দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। থাইল্যান্ডের মেয়েরা বেশি আছেন। মিডিয়ার আমার অনেক সহকর্মী এখানে আসেন। মৌ আপা, পিয়া বিপাশা এমনকি রিয়াজ ও ফেরদৌস ভাইও নিয়মিত এখানে স্পা করতে আসেন। আগে সকালে ঘুম থেকে জাগলেই অনেক পরিচালক ফোন করতেন নতুন কোনো চলচ্চিত্র কিংবা নাটকের গল্প শোনানোর জন্য কিন্তু এখন অনেকেই ফোন করে বলেন, ‘নিপুণ, তোমার ব্যবসা কেমন চলছে?’ এ ছাড়া অনেক পরিচালকের স্ত্রীরাও এখানে নিয়মিত আসেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সেলুন খোলা থাকে। আমি পুরো সময় এখানে না থাকলেও বাসা থেকে সব সময় খোঁজখবর রাখি।
প্রশ্ন : সৌন্দর্যচর্চার প্রতিষ্ঠান করতে আগ্রহী কেন হলেন?
উত্তর : মানুষের জীবনে তো শেখার শেষ নেই। আমার সব সময় নতুন কিছু করার আগ্রহ ছিল। আমি যখন দেশের বাইরে ঘুরতে যেতাম, তখন বড় বড় হোটেলে স্পা নিতে আমার ভালো লাগত। তখনই আমি নিজে সেলুন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। অভিনয়শিল্পী হিসেবেই সবার কাছে আমার পরিচিতি। এখন দেখি, নতুনভাবে সবার সঙ্গে পরিচিত হতে পারি কি না। এ কাজটা আমি ভালোবেসেই করছি। এখানে আমার অনেক ভক্ত আসেন। কাজ শেষে তাঁরা আমার সঙ্গে ছবি তোলেন, আলাপ করেন। তবে অনেকেই অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি এত শিক্ষিত হয়ে কেন বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন?’ আবার অনেকে বলেন, ‘আপনাকে শুধু বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে দেখেছি।’

প্রশ্ন : ব্যবসা শুরুর আগে কি এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন?
উত্তর : ঠিক সেভাবে কোনো প্রশিক্ষণ নেইনি। তবে সারাক্ষণই তো আমাদের মেক-আপ, রূপচর্চা এসব নিয়ে ভাবতে হয়। এ ছাড়া রাশিয়ায় যখন আমি পড়াশোনা করেছি, তখন পড়ার ফাঁকে একটি বিউটি পার্লারে কাজ শিখেছিলাম। দুই বছর কাজ শিখেছি। নিজের জন্যই কাজটা শেখা হয়েছিল। আমি নিজেই নিজের যত্ন ও সাজগোজ করতে চেয়েছিলাম। আসলে বাইরের সেলুনগুলো খুব ব্যয়বহুল। তাই টাকা বাঁচাতে নিজেই কাজ শিখে নিয়েছিলাম। এটা আমার শখও ছিল। এখন সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে। নিজের সেলুন করার দুই বছর আগে থেকে আমি পরিকল্পনা করেছিলাম। এরপর তিন মাস সময় লেগেছে এর ডিজাইন ও অন্যান্য কাজ করতে। তবে এটা সত্যি, প্রথমে ব্যবসা এত বড় করার কথা ভাবিনি। কিন্তু এখন ভাবছি।
প্রশ্ন : মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
উত্তর : ছবিটির গল্প একদমই মৌলিক। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই আমি ছবিটির কাজ করেছি। পুরো টিম ছিল অনেক চমৎকার। সহশিল্পী হিসেবে মোশাররফ করিম ভাই দারুণ ছিলেন। তৌকীর আহমেদ অনেক যত্ন নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন। সব মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী।
প্রশ্ন : অনেকেই ভাবছেন আপনি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এটা কতটুকু সত্যি?
উত্তর : পুরোপুরি নয়। অভিনয় আমার ভালোবাসার জায়গা। ভালো গল্প ও চিত্রনাট্য পেলেই আবারও চলচ্চিত্র ও নাটকে কাজ করব। নতুন চলচ্চিত্রে কাজ করার কথাবার্তাও চলছে। এনটিভির ‘হা-শো’ অনুষ্ঠানে আবারও বিচারক হয়েছি আমি। এবারের সিজনের প্রথম রেকর্ডিং হচ্ছে আজ (সোমবার)। দর্শক আমাকে টিভি পর্দায় আবারও খুঁজে পাবেন। আমিও আনন্দ নিয়েই কাজটা করব।

নাইস নূর