হুমায়ূন স্যারের দেশপ্রেম দেখে কান্না এসেছিল : ডা. এজাজ
আজ ১৯ জুলাই নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃতুবার্ষিকী। তাঁর অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিতে অভিনয় করেছেন ডা. এজাজ। তাঁকে স্মরণ করে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ করেছেন ডা. এজাজ।
প্রশ্ন : হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কোনো স্মৃতির কথা আপনার মনে পড়ে?
উত্তর : সবাই দেশকে ভালোবাসে। হুমায়ূন স্যারের দেশপ্রেম ছিল চমৎকার। স্যারের দেশপ্রেম দেখে আমার কান্না এসেছিল। ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির শুটিং করার সময়ের একটা ঘটনা আমি বলি। শেষ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় আমি আর ফারুক বাংলাদেশের পতাকা দেখে স্যালুট করি। মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশ জয় করার মাঝে আনন্দ ও তৃপ্তি ছিল, সেটা তখন আমি অনুভব করছিলাম। অভিনয় নয়, যেন বাস্তবে ফিরে গিয়েছিলাম। আমার একটা অভ্যাস ছিল, শুটিংয়ের একটা দৃশ্যে শেষ করে স্যারের দিকে আড়চোখে তাকানো। সেদিনও তাকিয়েছিলাম। দেখলাম স্যারের চোখে পানি। আমিও কেঁদেছিলাম। সত্যি বলতে, স্যারের দেশপ্রেম দেখে আরো বেশি কান্না পাচ্ছিল আমার। দেশ ও স্বাধীনতার কথা মনে পড়লে স্যারের কথা মনে পড়ে। ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির কথা মনে পড়ে। ছবিতে আমি আর ফারুক ভালো অভিনয় করিনি। কিন্তু আমাদের শেষ দৃশ্যের শুটিং শেষে স্যার এটা শ্রেষ্ঠ দৃশ্যের কথা আমাদের বলেছিলেন।
প্রশ্ন : আপনার কাছে হুমায়ূন আহমেদ কী?
উত্তর : স্যার আমার রক্তের কেউ না। তবু বাবা-মায়ের পরে তাঁকেই প্রথম শ্রদ্ধা করি। তাঁর সঙ্গে অফুরন্ত সময় কাটিয়েছিলাম। তিনি অনেক ভালো, নীতিবান, দেশপ্রেমিক ও ধার্মিক ছিলেন। তাঁকে মিস করি সারাক্ষণ।
প্রশ্ন : হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানো প্রিয় মুহূর্ত নিশ্চয় অনেক আছে।
উত্তর : অনেক আছে। সবচেয়ে ভালো লাগত শুটিং ইউনিটে আমরা একসঙ্গে খেতাম। এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তাম। এখন তো অনেক শুটিং করি, পরিচালক কিংবা শিল্পীদের আলাদা আলাদা খাবার আসে। প্রোডাকশন বয়রা আলাদা খাবার খান। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের সেটে সব সময় সবার জন্য একই খাবার থাকত। কারো জন্য আলাদা মেন্যু থাকত না। হুমায়ূন আহমেদ এটা পছন্দ করতেন না। এ ছাড়া খাবার যাতে কম না পড়ে, সেদিকেও ছিল তাঁর ভালো খেয়াল। আমি যখন খাবারের দায়িত্ব নিতাম, তখন খুব মনোযোগী ছিলাম যাতে কোনো ভুল না হয়।

নাইস নূর