‘পঞ্চমদা’র জন্মদিনে বলিউডের শ্রদ্ধা
‘পঞ্চমদা’। এই নামেই ভারতীয় চলচ্চিত্র কিংবা সংগীতের জগতে পরিচিত রাহুল দেববর্মন। কালজয়ী এই সুরস্রষ্টা আজ বেঁচে থাকলে পা রাখতেন ৭৭ বছর বয়সে। তাঁর জন্মদিনে বলিউডের জনপ্রিয় সব তারকা শ্রদ্ধা নিয়ে স্মরণ করেছেন তাঁকে। সঙ্গে গুগলের তরফ থেকেও গুগল-ডুডলের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়েছে তাঁকে।
ঋষি কাপুর লিখেছেন, ‘৭৭তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আর সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
ফারাহ খান লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন রাহুল দেববর্মন। আমার সৌভাগ্য যে সেই ছবিটার (১৯৪২ : আ লাভ স্টোরি) কোরিওগ্রাফি করতে পেরেছিলাম।’
আদনান সামি লিখেছেন, ‘রাহুল দেববর্মন কেবল সংগীত সৃষ্টি করেননি, বরং এমন একটা বিপ্লবের অগ্রদূত, যা আজও জীবন্ত। শুভ জন্মদিন পঞ্চমদা, আপনার বাড়িটাই ভারতে আমার প্রথম আবাস ছিল।’
আয়ুষ্মান খুরানা লিখেছেন, ‘প্রতিদিনই পঞ্চমদার গান শুনি, জানি না তাঁর জন্মদিন আলাদা করে কীভাবে পালন করব!’
অরিজিৎ সিং লিখেছেন, ‘রাহুল দেববর্মন অসামান্য এক মেধাবীর নাম। বলিউডের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুরকারদের মধ্যে তাঁর নাম সবার আগে থাকবে। তাঁকে এভাবে স্মরণ করার জন্য গুগলকেও ধন্যবাদ।’
অমিত ত্রিবেদী লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বস্! আপনার কাজগুলো এখনো জাদুর মতো লাগে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।’
মধুর ভান্ডারকর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন পঞ্চমদা। আপনার গান ছাড়া জীবনটাই অপূর্ণ রয়ে যেত। আপনার মতো সংগীত পরিচালক একবারই আসে।’
বিখ্যাত সংগীতশিল্পী শচীন দেববর্মনের (এস ডি বর্মন) একমাত্র ছেলে রাহুল দেববর্মন। তাঁর সুর ও সংগীতায়োজনে বিখ্যাত কিছু গানের মধ্যে রয়েছে ‘চুরা লিয়া হ্যায়’, ‘এক লড়কি কো দেখা তো’, ‘ও মাঝি রে’। তিন দশকের ক্যারিয়ারে ৩৩০টির বেশি ছবির সংগীতায়োজন করেছেন আর ডি বর্মন। ‘শোলে’ ও ‘মাসুম’-এর বিখ্যাত ছবির সংগীতায়োজন তাঁর করা। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৯৫ সালে সেরা সংগীতপরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
১৯৩৯ সালের ২৭ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাহুল দেববর্মন। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত হিন্দি ছবিতে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। এ ছাড়া নিয়মিত চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন তিনি। সত্তরের দশকে ডিস্কো বিট এবং রক ঘরানার সংমিশ্রণ আরোপ করে বলিউডি গানের ধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
তাঁর বেশিরভাগ গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আশা ভোঁসলে ও কিশোর কুমার। এ ছাড়া লতা মুঙ্গেশকরও আর ডি বর্মনের সুর ও সংগীতায়োজনের বেশ কিছু গান করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে মারা যান এই কালজয়ী সুরকার।

ফিচার ডেস্ক