২০১৫
বলিউডের নতুন মুখ
দূর থেকে দেখা বলিউডের জগৎকে এবার অনেকেই কাছ থেকে দেখেছেন। যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রশংসিত হয়েছে তাঁদের কাজ।
অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, সুরকার একঝাঁক নতুন মুখ পেয়েছে এবার বলিউড। তাঁদের প্রথম কাজ বলছে, আরো অনেক ভালো কাজ সামনের দিনগুলোতে পেতে যাচ্ছে হিন্দি সিনেমা।
এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট প্যান্ডোলিন ডটকম অবলম্বনে।
১. শশাঙ্ক অরোরা (তিতলি)

বছরের অন্যতম আবিষ্কার বলা যেতে পারে শশাঙ্ক অরোরাকে। ২৬ বছর বয়সী এই অভিনেতা তাঁর বলিউড যাত্রা শুরু করেছেন যশরাজ ফিল্মসের ‘তিতলি’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কানু ব্যাহল। দিল্লির বাসিন্দা শশাঙ্ক নিজের প্রথম ছবিতে অভিনয়ের জন্য দিল্লির বিভিন্ন বস্তিতে থেকেছেন, যেখানে পানি ও বিদ্যুৎ থাকে না প্রায়ই। কারণ, ছবিতে এমনই এক বস্তিবাসীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শশাঙ্ক। এ ছাড়া শশাঙ্ক এখন অভিনয় করছেন সুজাত সওদাগরের ‘রক অন ২’, প্রকাশ ঝার ‘লিপস্টিক ওয়ালে সাপনে’ ও কিউ-এর ‘নামান’ ছবিগুলোতে।
২. ভূমি পেড়নেকার (দাম লাগাকে হাইশা)

মোটা নায়িকাও যে বলিউডে জনপ্রিয় হতে পারে, তার উদাহরণ ভূমি পেড়নেকার। যশরাজ ফিল্মসের ‘দম লাগাকে হাইশা’ ছবির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন এ বছর। গল্প, নির্মাণ এবং ভূমির অভিনয় দুর্দান্ত। আর তাই ছবিও হিট। তবে অভিনয়ের আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ভূমি।
৩. ভিকি কৌশল (মাসান)

অ্যাকশন পরিচালক শ্যাম কৌশলের ছেলে ভিকি কৌশল। অভিনেতা হিসেবে ভিকির প্রথম ছবি ‘মাসান’। ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছিল ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে। এমনকি খোদ অমিতাভ বচ্চনও ‘মাসান’ দেখার পর ভিকির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। এর পর মোজেজ সিং পরিচালিত ‘জুবান’ ছবিতে দেখা যাবে ভিকিকে।
৪. কপিল শর্মা (কিস কিসকো প্যায়ার কারু)

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান কপিল শর্মা অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন এ বছর। বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি ‘কিস কিসকো প্যায়ার কারু’। ছবিটি ভালো ব্যবসা করেছে, অভিনয়ের জন্য প্রশংসিতও হয়েছেন কপিল। কিন্তু ছবির গল্প আর দুর্বল নির্মাণ নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। ছবিটির প্রযোজক আব্বাস-মাস্তান জুটি।
৫. হরশালি মালহোত্রা (বজরঙ্গি ভাইজান)

‘বজরাঙ্গি ভাইজান’-এর ছোট্ট মুন্নি এবার ‘বদনাম’ নয়, সুনাম কুড়িয়েছে। প্রথম ছবিতেই সালমান খানের সঙ্গে অভিনয়। মুন্নি চরিত্রে অভিনয় করা এই শিশুশিল্পীর নাম হরশালি মালহোত্রা। নিষ্পাপ চেহারার হরশালির সাবলীল অভিনয় জয় করেছে দর্শকের হৃদয়। অনেকেই কেঁদেছেন হরশালির হৃদয়ছোঁয়া অভিনয় দেখে। প্রায় পাঁচ হাজার মেয়েশিশুর মধ্য থেকে অডিশনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হয়েছিল হরশালিকে। মাত্র সাত বছর বয়সী হরশালির প্রথম ছবি ব্যবসা করেছে ৩০০ কোটি রুপির বেশি। এর চেয়ে ভালো শুরু আর কী হতে পারে।
৬. হর্ষবর্ধন কুলকার্নি (হান্টারররর)

আরেকজন মেধাবী পরিচালক বাড়লো বলিউডে। প্রথম ছবি ‘হান্টারররর’, পরিচালক হর্ষবর্ধন কুলকার্নি। পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এফটিআইআই) সাবেক ছাত্র হর্ষবর্ধন। ছবি বানানোর আগে ‘সিআইডি’ ও ‘আহাত’-এর মতো টিভি সিরিয়ালে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এর বাইরে করপোরেট জগতের জন্য ফরমায়েশি ভিডিও নির্মাণের কাজ করেছেন জীবিকা অর্জনের জন্য। কিন্তু লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্র। ‘হাসি তো ফাঁসি’ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি। এখন ‘হান্টাররর’ ছবির সিক্যুয়াল তৈরির চিন্তাভাবনা করছেন হর্ষবর্ধন।
৭. চৈতন্য তামানহে (কোর্ট)

বালাজি টেলিফিল্মসের জন্য ডেইলি সোপের চিত্রনাট্য লিখতেন চৈতন্য তামানহে। এ বছর পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন মারাঠি ছবি ‘কোর্ট’-এর মাধ্যমে। সাতটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছে ‘কোর্ট’ ছবিটি। ভারতে সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। অস্কারে সেরা বিদেশি ছবি শাখায় ভারত থেকে প্রতিযোগিতা করছে ছবিটি। প্রথম ছবি দিয়েই এত অর্জন বলিউডে বিরল ঘটনা।
৮. অভিনাশ অরুণ (কিল্লা)

ভারতের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এফটিআইআই) আরেকজন সাবেক ছাত্র অভিনাশ অরুণ, যিনি এ বছরই পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন এবং প্রথম ছবির জন্য জিতেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মারাঠি ছবি ‘কিল্লা’র নির্মাতা অভিনাশ ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে। ‘মাসান’ ও ‘দৃশ্যম’ ছবির সিনেমাটাগ্রাফারও এই অভিনাশ অরুণ।
৯. নীরাজ ঘাওয়ান (মাসান)

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছবি ‘মাসান’। কান চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি পুরস্কার জিতেছিল ছবিটি। এটা পরিচালক হিসেবে নীরাজ ঘাওয়ানের প্রথম ছবি। একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং এমবিএ নীরাজ ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন করপোরেট জগতের একজন হিসেবে। কিন্তু সিনেমা বানাবেন বলে একদিন চাকরি ছেড়ে দিলেন। সেটা যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন প্রথম ছবির মাধ্যমে।
১০. অনুপম রায় (পিকু)

বাঙালিদের কাছে তিনি পরিচিত এবং জনপ্রিয়। তবে এ বছরই প্রথম বলিউডে পা রেখেছেন অনুপম। ‘পিকু’ ছবির সংগীত পরিচালক হিসেবে। ‘বেজুবান’-এর মতো গান তৈরি করেছেন অনুপম। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গোল্ড মেডেলিস্ট অনুপমকে গানের মানুষ হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেছে বলিউড।
১১. তানিশক-ভায়ু (তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস)

‘তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস’ ছবির জন্য ‘বান্নো তেরা সোয়াগের’ গানটি তৈরি করেছেন তানিশক-ভায়ু জুটি। উত্তর ভারতের বিয়ের গানের থিমে তৈরি করা হয়েছে গানটি। ছবি যেমন হিট, গানও তেমন হিট। আর সংগীত পরিচালক জুটি তো হিট হবেই। ছবির জন্য গানটি লিখেছেন ভায়ু।

ফাহিম ইবনে সারওয়ার