বলিউড ২০১৫
যে ১০ ছবি দেখা মানে সময় নষ্ট!
বলিউডে প্রতিবছর হাজার খানেকের মতো ছবি হয়। তবে ভালো ছবি হয় হাতেগোনা ৫/১০টা। বেশির ভাগ ছবিই দর্শককে সন্তুষ্ট করতে পারে না। আবার ভালো ছবি এবং ব্যবসাসফল ছবির ধরন আলাদা। সব ভালো ছবিই যে ব্যবসাসফল হয়, তা কিন্তু নয়। বলিউডবিষয়ক ওয়েবসাইট ডেইলি ও ডটকম দর্শকদের সময় বাঁচাতে এ বছরের ১০টি হিন্দি ছবির তালিকা প্রকাশ করেছে, যেগুলো দেখা মানেই সময় নষ্ট করা। তালিকায় কয়েকটা ব্যবসাসফল ছবিও রয়েছে!
১. শানদার
যতটা আলোচনা ছিল, ততটাই হতাশ করেছে শহিদ-আলিয়ার ‘শানদার’। আধাঘণ্টা পর নাকি হলে দর্শক রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছিল ছবিটার জন্য। অথচ এই ছবির পরিচালক বিকাশ ব্যাহল এর আগে ‘কুইন’ ছবির মাধ্যমে বলিউড যাত্রা শুরু করেছিলেন। দুটি ছবিই যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের এই কথাটা বিশ্বাস করতে কষ্টই হবে যে ‘কুইন’ ও ‘শানদার’ একই পরিচালকের ছবি!
২. দিলওয়ালে
মহাসমারোহে ভারতের সিনেমা হলগুলোতে চলছে শাহরুখ-কাজলের ‘দিলওয়ালে’। কিন্তু পরিচালক রোহিত শেঠি এই ছবিতে চিত্রনাট্য বলে যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে, সেটা মনে হয় ভুলেই গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, শাহরুখ-কাজল তো আছেই, একটা কিছু বানালেই হবে! আর তাই কমেডি করতে গিয়ে বিরক্ত করেছেন দর্শকদের। সব ছবির মতো এই ছবিতেও কয়েকটা গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছেন, যার কোনো দরকারই ছিল না।
৩. কাট্টি বাট্টি
নিখিল আদভানি ‘কাট্টি বাট্টি’ বানিয়েছিলেন নামকরা হলিউড রোমান্টিক ছবি ‘ফাইভ হান্ড্রেড ডেজ অব সামার’-এর নকল করে। কিন্তু ছবিটা নকলও হয়নি ঠিকঠাকভাবে। মূল ছবির ধারেকাছে তো যেতেই পারেনি, উল্টো কঙ্গনার অভিনয় যতটুকু দেখার মতো ছিল তা-ও গল্পের কারণে আর বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি দর্শকদের। এত বাজে গল্প ভাবার জন্যও প্রতিভা দরকার হয়, সবাই নাকি এ রকম গল্প ভাবতে পারে না—সমালোচকরা এভাবেই বলেছেন ছবিটি সম্পর্কে!
৪. অ্যালোন
হরর এই ছবি দেখে আপনার মোটেও ভয় লাগবে না! এটাই সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়। ছবিতে যত গান রয়েছে, সবকটিতেই পরিচালক নায়ক-নায়িকাদের শরীর দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন। আর এসব কারণেই ‘অ্যালোন’ ছবিটি একাই রয়ে গেছে।
৫. রয়
এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য রণবীর কাপুর সারা জীবন আফসোস করবেন। ছবির গল্পটা যে আসলে কী, সেটা বুঝতেই দর্শকদের সময় পেরিয়ে যাবে। এক গল্পের মধ্যে আরেক গল্প বলতে গিয়ে চিত্রনাট্যে একেবারে গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছেন পরিচালক। ভরসা ছিল স্টার কাস্ট। রণবীর কাপুর, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, অর্জুন রামপাল। ছবির গানগুলোই শুধু ভালো, বাকিটা দেখার মতো নয়।
৬. হামারি আধুরি কাহানি
১৯৬০ বা ১৯৭০-এর দশকে মুক্তি পেলে এই ছবি ব্লকবাস্টার ব্যবসা করত। কারণ, এই ছবির গল্প এতটাই সেকেল যে এ যুগের সঙ্গে তা কিছুতেই যায় না। পারিবারিক টানাপড়েন এবং দুঃখী গৃহিণী হিসেবে বিদ্যা বালানের আবেগী অভিনয় দর্শকদের মধ্যে কোনো আবেগই আনতে পারেনি।
৭. হিরো
১৯৮০-এর দশকের হিট ছবির রিমেক ‘হিরো’। কিন্তু তাও দর্শক টানতে পারেনি। গল্প নিয়ে ভাবার চেষ্টাই করেননি পরিচালক-প্রযোজক। ২০ বছর আগের গল্প যে এখন আর চলে না, সেটা তাঁদের মাথাতেই ছিল না। তার ওপর একদমই নতুন জুটি সুরাজ পাঞ্চোলি ও আথিয়া শেঠি দর্শকের মনে জায়গা পাননি। আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরাজ পাঞ্চোলি ও সুনীল শেঠির মেয়ে আথিয়া শেঠি। তবু সব সময় ‘স্টার কিড’দের ভাগ্য যে সুপ্রসন্ন হয় না, এই ছবিই তার প্রমাণ। পরিচালক হিসেবে নিখিল আদভানির আরেকটি বৃথা চেষ্টা।
৮. কিস কিসকো প্যায়ার কারু
কমেডিয়ান কপিল শর্মার প্রথম ছবি। তিনিই ছবির সব। কিন্তু ছবিতে যে গল্প দেখানো হয়েছে, তাতে দর্শকদের বিরক্তি ধরাটাই স্বাভাবিক। যদিও কপিলের বদৌলতে ছবিটি ভালো ব্যবসা করেছে। ছবিতে তিন বউয়ের সঙ্গে সংসার করেছেন কপিল। এই তিন বউ আবার একই অ্যাপার্টমেন্টের তিনটি আলাদা ফ্ল্যাটে থাকেন। এর পাশাপাশি কপিলের একজন সিরিয়াস গার্লফ্রেন্ডও থাকে! বুঝুন অবস্থা!
৯. প্রেম রতন ধান পায়ো
সেই ১৯৯০ দশকের পরিচালক সুরাজ বারজাতিয়া। নব্বইয়ের গল্প ও দৃশ্যায়ন থেকে তিনি আর বের হতে পারেননি। ভরসা ছিল সালমান খান। তাঁর কারণেই ছবি হিট! কিন্তু গল্প বা অভিনয় দুটোই অনুপস্থিত এই ছবিতে। আর নীল নিতেন মুকেশ আর আরমান কোহলি যে ছবিতে কেন ছিলেন, সেটা পুরো ছবি শেষ হওয়ার পরও দর্শক বুঝতে পারবেন না।
১০. হেট স্টোরি ৩
আগের দুই হেট স্টোরি যে খুব একটা ভালো হয়েছিল, তা নয়। তবে ‘হেট স্টোরি ৩’ আদতে কিছুই হয়নি। শুধুমাত্র সারমান জোশি ছাড়া বাকি তিনজন অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয়ের নামে দর্শকের সঙ্গে মশকরা করেছেন। আর এসব দুর্বলতা ঢেকে দর্শক ধরে রাখতে কিছু রগরগা গানের দৃশ্য রাখা হয়েছে ছবিতে, যা ছবির মানকে আরো নিম্নগামী করেছে।

ফাহিম ইবনে সারওয়ার