তদন্তে নতুন মোড়
জিয়া খানের মৃত্যুর মূল কারণ কি গর্ভপাত?
জিয়া খানের আত্মহত্যার ঘটনাটি নতুন করে খতিয়ে দেখছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। কয়েক দিন আগে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয় সিবিআইর পক্ষ থেকে। মুম্বাই মিররের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অভিযোগপত্রের যাচাইয়ে এ ঘটনায় নতুন করে ফেঁসে যাচ্ছেন জিয়ার প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলি। জিয়া খানকে গর্ভপাত করার জন্য বারবারই জোর করেছেন তিনি, সে সঙ্গে অসুস্থ জিয়ার সঙ্গেও করেছেন অসদাচরণ—বলছে প্রতিবেদনটি।
গর্ভধারণের চার সপ্তাহের মাথায় জিয়া সুরজকে এ বিষয়ে জানান। এর পর তাঁরা একজন চিকিৎসকের কাছে যান এবং চিকিৎসক জিয়াকে গর্ভপাতের জন্য কিছু ওষুধ দেন। তবে এতে কোনো কাজ না হলে তাঁরা একজন গাইনোকোলজিস্টের শরণাপন্ন হন এবং তিনি বেশ কিছু ওষুধ দেন। সেই ওষুধ গ্রহণের পর জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি সুরজের সাহায্য চান।
কিন্তু সুরজ তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং সেই গাইনোকোলজিস্টের কাছেই আবারো পরামর্শ চাওয়ার কথা বলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, জিয়াকে হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য, যা তিনি করেননি। এ অবস্থায় রক্তপাত হতে থাকলে জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে সুরজ নিজেই অপত্য ভ্রূণটি সরিয়ে ফেলেন এবং তা টয়লেটে ফেলে দেন। সুরজ আতঙ্কিত ছিলেন এই ভেবে যে, হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে সবাই জেনে ফেলবে এবং সেটি তাঁর নিজের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ঘটনায় জিয়া ভয়াবহ মানসিক আঘাত পান এবং এর পর থেকে সুরজ জিয়াকে এড়িয়ে চলতে আরম্ভ করেন। এতে জিয়া মানসিকভাবে তীব্র হতাশায় ভুগতে শুরু করেন এবং পরিশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
অবশ্য সিবিআইর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তরা নিরপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারণ করা হবে। আপাতত সুরজের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া’র অভিযোগ করেছে সিবিআই।
মুম্বাইয়ে সুরজের বাড়িতে এরই মধ্যে কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে কিছু তথ্য পেয়েছে সিবিআই। এর মধ্যে রয়েছে চিঠি, পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিবিআইর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সবকিছু এরই মধ্যে দিল্লির সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সুরজের মা, একসময়ের নিয়মিত বলিউড অভিনেত্রী জরিনা ওয়াহাব মুম্বাই মিররকে দেওয়া মন্তব্যে তল্লাশির বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমরা এই অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি, তবে তদন্ত সংস্থা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী করা হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক আইনজীবীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তাঁরা এগোবেন।
এর আগে সুরজ পাঞ্চোলি নিজের ‘ভুলের’ কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমি কখনোই এমন কথা বলব না যে আমি ভুল করিনি। করেছি, আমি ভুল করেছি। সেটা যা-ই হোক না কেন।’ জিয়া খানের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে সুরজ বলেন, ‘নাফিসা (জিয়া খান) সব সময়ই আমার মন আর হৃদয়ের মাঝে থাকবে।’ তবে এসব কথা বললেও নিজের ‘অপরাধ’ বিষয়ে কোনো ধরনের মচকানো মন্তব্য করেননি সুরজ। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে বিচলিত ছিলেন না তিনি, ‘আমার যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে কোনো কিছুই আমাকে বাঁচাতে পারবে না। কিন্তু তা না হলে কোনো কিছুই আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’
সেলিব্রেটি নায়িকাদের আত্মহত্যার তালিকায় সাম্প্রতিক নাম জিয়া খান। সামান্য সময়ের ক্যারিয়ারে অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের মতো তারকার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন জিয়া। ‘নিঃশব্দ’, ‘গজিনী’র মতো দুর্দান্ত ছবি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারে। জুহুর আবাসস্থলে সিলিং ফ্যানে ঝোলানো অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায় ২০১৩ সালের ৩ জুন। আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে গেছেন তাঁর সুইসাইড নোটে। সে সম্পর্কের অবস্থাটি যে মোটেও ভালো ছিল না, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।

সামি আল মেহেদী