টাকাই এখন আমার দুঃস্বপ্ন : অনুরাগ কশ্যপ
‘বম্বে ভেলভেট’ ছিল অনুরাগের স্বপ্নের ছবি। সেই স্বপ্নের ছবি যে তাঁর জীবনে এতবড় দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে, তা কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন এই গুণী পরিচালক। বলিউড ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ব্যর্থ ছবি’ হিসেবেই মনে রাখা হবে বম্বে ভেলভেটকে। শত কোটি টাকার লোকসান, চাইলেও তো ভুলতে পারেন না অনুরাগ। এই বিশাল লোকসানের হিসাব তাঁর মাথায় চেপে রয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, টাকাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।
রণবীর কাপুর, আনুশকা শর্মা এবং করণ জোহর অভিনীত ‘বম্বে ভেলভেট’ সমালোচকদের কাছ থেকে কেবলই মন্দ কথা শুনেছে। বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে বললেও ভুল হবে, একেবারে ধুলোয় মিশে গেছে। ফলাফল, শত কোটি টাকার লোকসান।
এ নিয়ে অবশ্য নির্মাতাদের কাছ থেকে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি অনুরাগকে। কিন্তু নিজে এই লোকসানের দায়ভার থেকে মুক্ত হতে পারেন না কোনোভাবেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষজন আমার স্বপ্নে বিনিয়োগ করেছে, ব্যাপারটা আসলে যৌক্তিক ছিল না। আমি নেহাত বছর দশেক একটা কিছুর স্বপ্নে ডুবে ছিলাম, তার মানে এই নয় যে সেটায় কারো এতটা ভরসা করতেই হবে। তারা সবকিছু করে এই বিশাল লোকসানে পড়ল। আমার জন্য এই দায়ভার থেকে মুক্ত হতে অনেক লম্বা সময় লাগবে।
টাকাপয়সার বোঝা কতটা বিপদ (অন্তত নিজের জন্য!) সেটা ভালোমতোই টের পেয়ে গেছেন অনুরাগ। নিয়ে নিয়েছেন আজীবনের শিক্ষা, আর কখনো এত বড় বাজেটের ছবি নিয়ে কাজ করবেন না।
‘টাকাই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। আমার এখন মনে হয় এ রকম, ছবি বানানোর খরচ যত কমানো যায়, ততই ভালো। আমি একটা বিশাল খরচের ছবি বানিয়েছি যেটা সম্ভবত সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে লোকসান করা ছবি। আমি যে দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছি, সেটা কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। এ রকম কিছু আমি আর কখনোই করতে চাই না। আমি বিভিন্ন স্টুডিওর সাথে কাজ করব, তবে এ রকম বাজেটের কোনো ছবি নিয়ে আর কখনোই নয়। আমি কখনোই চাই না আর কেউ এ রকম লোকসানের শিকার হোক।’
অবশ্য নিজেই প্রযোজক, লেখক এবং পরিচালক হয়ে ছবি বানাবেন কি না, সে বিষয়ে অনুরাগের মতামত অন্যরকম। নিজেই সবকিছু করতে একেবারেই ভয়টয় পান না তিনি। ‘আমি নিজের ছবিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করি। অন্য কেউ এই কাজটা করুক, তা আমি চাই না’, এভাবেই বলেন তিনি।
অনুরাগ জানিয়েছেন, নিজের পরবর্তী ছবির শুটিং এরই মধ্যে শেষ করেছেন। এমনকি এর পরের ছবিটির কাজও নাকি শুরু করে দিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কথা বলতে নারাজ তিনি। তাঁর কথা, ‘আমি ঠিক করেছি নিজের ছবি নিয়ে আর কোনা রকমের কথাবার্তা বলব না। যখন ছবি মুক্তি পাবে, তখনই মানুষ সব জানতে পারবে।’

সামি আল মেহেদী