শর্মিলা ঠাকুরের মাইলস্টোন ‘অপুর সংসার’
‘অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব কখনো ভাবিনি। কিন্তু একটা সময় কীভাবে যেন এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। অবশ্য তারপর এই পেশায় এসে মনে হয়েছে, একেবারে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম।’ সম্প্রতি কলকাতায় এসে সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই সত্যজিৎ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন বলিউডের পদ্মভূষণপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। কথায় কথায় জানালেন, “আমার সিনেমাজগতে আসা মানিকদার (সত্যজিৎ রায়) হাত ধরেই। খুব ছোট বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করি মানিকদার ‘অপুর সংসার’ ছবিতে, যা আজও আমার জীবনে মাইলস্টোন হয়ে আছে। মানিকদার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। ওনার মোট পাঁচটা ছবিতে অভিনয়ও করেছি।”
জীবনের প্রথম দিকে অভিনয় করার চেয়ে নৃত্যশিল্পী হওয়ার দিকেই ঝোঁক ছিল এই অভিনেত্রীর। জানালেন, ‘এই জগতে না এলে নৃত্যশিল্পী হতাম। তবে এই পেশায় এসে ঠিক কাজই করেছিলাম। জীবনে অনেকেই তো চায় সেলিব্রিটি হতে। এখন তো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মিউজিশিয়ানরাও মিউজিক ভিডিও করছেন। তবে আমি মনে করি, অভিনয় করাটা ওয়ান্ডারফুল প্রোফেশন। এই পেশায় যুক্ত হতে পেরে আজ আমি খুব খুশি। আজ আমার ছেলেমেয়েরাও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে দেখে ভীষণ ভালো লাগে।’ তবে মেয়ে সোহা কিংবা ছেলে সাইফকে সেই অর্থে অভিনয়ের কোনো টিপস তিনি দেননি। সত্তরোর্ধ্ব এই অভিনেত্রী জানিয়ে দিলেন, কোনো অ্যাক্টর কাউকে টিপস দিতে পারে না।
মা হিসেবে মাকে মায়ের জায়গায় থাকাই ভালো। তবে ছেলেমেয়েরা যদি আগ বাড়িয়ে কিছু জানতে চায় সেটা অন্য ব্যাপার। আর তা নাহলে ওদের নিজস্ব এখতিয়ার নিয়ে কিছু বলা ঠিক বলে মনে করেন না শর্মিলা। তিনি বললেন, ‘সোহা কিংবা সাইফ পড়াশোনা করছে, টিভি দেখছে। ওদের গাইড করার জন্য পরিচালকরা আছেন।’ তবে নিরপেক্ষ বিচারে সাইফ অনেকটাই বেটার বলে মনে করেন শর্মিলা।
সোহা কিংবা সাইফের মা হয়েও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘সাইফ বেটার, তার কারণ সে অনেক ছবিতে কাজ করেছে। তা ছাড়া সাইফ যেমন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সোহা আবার উল্টো। ছুটির দিনে ছুটি নেয়, এনজয় করে।’
আপাদমস্তক বাঙালি শর্মিলা ঠাকুর বাংলা থেকে দূরে থাকলেও বাংলার সবকিছুই এখনো ভীষণ প্রিয় তাঁর। তাই তো বাংলার স্বাদ পেতে সময় পেলেই ছুটে আসেন কলকাতায়। বাঙালি খাবারদাবার, শাড়ি, বিশেষ করে ঢাকাই শাড়ি পরতে ভীষণ ভালোবাসেন। আজ সত্তরের গণ্ডি পেরুলেও সামাজিক কাজে পুরোদস্তুর নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন নিজেকে। এইচআইভি এইডসের মতো ভয়াবহ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে চলেছেন শর্মিলা। তবে সেই কাজের ফাঁকে যেটুকু সময় সুযোগ মেলে, সে সময়ে শুয়ে ঘুমিয়ে কাটাতে চান না তিনি। বললেন, ‘সামান্য অবসর পেলেই বই পড়ে, গার্ডেনিংয়ের কাজ করে কিংবা মিউজিক শুনেই সময় কাটিয়ে দিই।’

মনোজ বসু, কলকাতা