ধারাবাহিকের চেয়ে বাজে চলচ্চিত্রও ভালো : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
‘অভিনয় করার খিদেটা আমার এখনো মরেনি। এখনো আমি অভিনয়ের জন্য আশা করে থাকি।’ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমন কথাই জানালেন টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যখন পরিচালক সত্যজিৎ রায় বেঁচেছিলেন তখন ভাবতাম, কবে আমাকে মানিকদা (সত্যজিৎ রায়) উনার একটা ছবিতে নেবেন। এখনো ভালো গল্প শুনলে মনে হয়, ইস, যদি আমায় নেয়...। তবে এখন আমার সব থেকে বড় ভাবনা এবং অন্যতম চেষ্টা হচ্ছে নিজের শরীরটাকে চালু রাখা। যাতে আমি ছবিতে ভালোভাবে কাজ করার উপযুক্ত থাকতে পারি। শরীর তো আর আমার ইচ্ছেয় চলবে না। আজ থেকে তিন বছর আগেও ‘রাজা লিয়র’ নাটকে মঞ্চ দাপিয়ে বেড়িয়েছি। কিন্ত এখন সেই তিন বছরটা অনেক বড় ফ্যাক্টর। তিন বছর আগে যে শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নাটক করেছি, এখন আর সেটা নেই। বাইরের লোকে আমাকে সোজা হয়ে হাঁটতে দেখে হয়তো বুঝতে পারে না। কিন্ত আমি বুঝি, সেই তিন বছরের অতীতটাকে এখন ফিরিয়ে আনা কতটা কঠিন। তাই এখন আমার সব থেকে বড় চেষ্টা নিজের শরীরটাকে ঠিক রাখা।’
তবে কি সিনেমায় আর কাজ করবেন না সৌমিত্র? এমন আশঙ্কার জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আমি বলতে পারি না। ওসব পরিচালকের ব্যাপার। তবে আমি শুধু বলতে পারি, আশায় বাঁচে চাষা।’ তবে বয়সের ভারে অনেকটা ভারাক্রান্ত হলেও টিভি ধারাবাহিক (স্টার জলসা চ্যানেল) ‘জলনূপুর’-এ অভিনয় করছেন তিনি। টিভিতে ‘জলনূপুর’ ধারাবাহিকে এই বয়সে এসে অভিনয় করাটা মূলত সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধেই বলে জানালেন তিনি। বললেন, ‘সাবু (সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়) আমার বহুদিনের বন্ধু। ও আমাকে এমনভাবে ধরেছিল যে আমি ওর অনুরোধ রক্ষা না করে পারলাম না। তবে সত্যি কথা বলতে কি, ডেইলি সোপ বা সিরিয়াল, তার না আছে মাথা না আছে মুণ্ডু। আমার মনে হয়, আ ব্যাড ফিল্ম ইজ বেটার দ্যান আ সিরিয়াল। একজন অভিনেতা হিসেবে একটি ছবি সম্পর্কে বলা যায়- ছবির আগা আছে, মধ্য আছে, অন্ত আছে। সেটা কি আমি জানি। কিন্তু, সিরিয়ালের কিছুই আমি বুঝতে পারি না।’
বর্তমানের টিভি চ্যানেল সম্পর্কে মত পোষণ করতে গিয়ে প্রবাদপ্রতীম এই অভিনেতা বলেন, ‘এখন বিভিন্ন সংস্থা বা চ্যানেল ছবি তৈরি করছে। অবশ্যই ভালো পদক্ষেপ। তবে আগে চ্যানেলগুলো ছবির রাইটস কিনত। কিনে সেই ছবিগুলো দেখাত। এখন সেটা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছবির প্রোডিউসাররা খুবই মুশকিলে পড়ছেন। কারণ, একটা নিশ্চিত টাকা আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন অবশ্য সেই টাকায় চ্যানেল তিন চারটে করে ছবি তৈরি করে নিচ্ছে। ভালো উদ্যোগ। প্রথম দিকে যখন টিভি এসেছিল, তখন ছোট্ট ছোট্ট ছবির মধ্য দিয়ে অসম্ভব সুন্দর সুন্দর এক্সপেরিমেন্ট, সাহসী ও সুন্দর সুন্দর কাহিনী দেখতে পেতাম। যে ব্যাপারটা ফিরে আসছে। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।’
তবে আজকের দিনে থ্রিলার বলে যে সমস্ত ছবি দাবি করা হচ্ছে সেগুলোকে পুরো থ্রিলার বলতে রাজি নন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। জানিয়েছেন, ‘থ্রিলারের মধ্যেও একটা সমাজচিত্র ফুটে উঠছে। আজকালকার দেশ এবং সামাজিক অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রতিদিনই কাগজ খুললে আমাদের চারটা ধর্ষণ, পাঁচটা খুন, ছটা ইয়ে... দেখতে হয়। যার ইমপ্যাক্ট আমাদের সবার মনের মধ্যেই তৈরি হয়। থ্রিলারধর্মী বহু ছবিতে সেই সব সমাজচিত্রকে ফুটিয়ে তুলে একটা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কারণে আমি সব ক্ষেত্রে ওসব ছবিকে থ্রিলার বলতে রাজি নই।’

মনোজ বসু, কলকাতা